চট্টগ্রামের ১১ জনের মধ্যে কর্ণফুলীর নূর উদ্দিনও জিম্মি জলদস্যুর হাতে!

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে নিয়ন্ত্রণে থাকা এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিকের মধ্যে একজন কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের লিচুতল এলাকার মো. নূর উদ্দিন (৩২)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়উঠান ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াছ। তিনি জানান, জিএস নূর উদ্দিন বড়উঠানের মৃত আমিন শরীফের ছেলে।

নূর উদ্দিনের বড় ভাই হারুনুর রশিদ বলেন, আমার ভাইয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। ভিডিও কলে আমাদের সবাইকে শেষ বারের মতো দেখেছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, জাহাজের মালিককে যেন আমরা খবরটি পৌঁছাই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছেলে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি খবরে কাঁদছে মা ইসলাম খাতুন (৬৫), কাঁদছে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসও (৩১)। তাঁর আড়াই বছরের একমাত্র ছেলে সাদ বিন নূর অবাক দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জিএস মো. নূর উদ্দিন ফয়জুল বারি মাদ্রাসা মাদরাসা থেকে দাখিল ও পটিয়ার শাহ্ চান আলী মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেছেন। এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজে যোগদান করেছেন মাত্র ৩ তিন মাস আগে।

তাঁর স্বজনরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, নূর উদ্দিনসহ ২৩ নাবিককে যেন জিম্মিদশা থেকে দ্রুত ফিরে আসে।

গত মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। জাহাজটি মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণে নেয় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। এরমধ্যেই চট্টগ্রামের ১১ জন। তারমধ্যে কর্ণফুলীর নূর উদ্দিনও রয়েছে।

বাকি ক্রুরা হলেন-ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ, চিফ অফিসার মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ খান, দ্বিতীয় কর্মকর্তা মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, তৃতীয় কর্মকর্তা মো. তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট মো. সাব্বির হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী এএসএম সাইদুজ্জামান, দ্বিতীয় প্রকৌশলী মো. তৌফিকুল ইসলাম, তৃতীয় প্রকৌশলী মো. রোকন উদ্দিন, চতুর্থ প্রকৌশলী তানভীর আহমদ, ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ, এবি মো. আনোয়ারুল হক, এবি মো. আসিফুর রহমান, এবি সাজ্জাদ হোসেন, ওএস জয় মাহমুদ, ওএস মো. নাজমুল হক, ওএস আইনুল হক, অয়েলার মোহাম্মদ শামসউদ্দিন, মো. আলী হোসেন, ফায়ারম্যান মোশারফ হোসেন শাকিল, চিফ কুক মো. শফিকুল ইসলাম ও ফিটার মো. সালেহ আহমেদ।