গুলিবিদ্ধ অনেকেই এখনও কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে মারাত্মকভাবে আহতদের দিন কাটছে মেডিকেলের শয্যায় শুয়ে। তাদের শোকে যেন কাতর সবাই। বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলা জানা যায় তাদের সাথে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনার বর্ণনা। যেখানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া এখনও গুলিবিদ্ধ অনেকেই কাতরাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বেডে।

গতকাল রোববার সরেজমিনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে চোখে পড়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক আহতের করুণ দৃশ্য।

তাদেরই মধ্যে একজন নূর নবী আজাদ। পেশায় ট্রাক চালক। ৫ আগষ্ট চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় পুলিশ এবং ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় আহত হন তিনি। হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে আজাদ বলেন, ৫ তারিখ তিনি ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে গিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে পুলিশ এবং ছাত্রলীগের ধাওয়ায় আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। সে সময় পুলিশ এসে স্টিক দিয়ে তার পায়ে আঘাত করে পা ভেঙে দেয়। আর ছাত্রলীগের ছেলেরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। বাম হাতে কোপ লাগার কারণে হাতের রগ কেটে যায়। তারপর লোকজন তাকে তৎক্ষনাৎ ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাত পায়ে ব্যান্ডেজ বাধা অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন তিনি।

সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার দিন (৫ আগষ্ট) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আরেক ভুক্তভোগী মো. সাঈম। হাটহাজারী সরকারি কলেজের ছাত্র তিনি। আহত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তিনি সেদিন হাটহাজারীতে আন্দোলনে ছিলেন। আন্দোলন চলাকালে দৌড় দেয়ার সময় ডান পায়ের উরুতে এসে পিছন দিক থেকে গুলি লাগে। সামজনের পকেটে থাকা মোবাইল ফোন ফুটো হয়ে সেই গুলি বেরহয়। এতে হাড় তিন টুকরো হয়ে পড়ে। আপরাশেন লাগবে বলেছে ডাক্তার। চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হচ্ছে অনেক টাকা। ১৬ হাজার টাকা পরীক্ষা নিরীক্ষাতেই খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। ‘

অন্যদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচী পালনের দিন (৪ আগষ্ট) গুলিবিদ্ধ হন আরেক ভুক্তভোগী সাকিব। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। আন্দোলনে অংশ নিয়ে নগরীর মনসুরাবাদ এলাকায় পায়ে পুলিশের গুলি লেগে আহত হন। তারপর তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এখনও সেখানে চিকাৎসাধীন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন বলেন, যারা ছাত্র আন্দোলনে আহত হয়েছেন সবার দেখাশোনা করার দায়িত্ব সমন্বয়ক হিসেবে আমাদের উপর রয়েছে। হোক তিনি ছাত্র বা অন্য পেশার কেউ। কিন্তু হাসপাতালে আহতদের দেখাশোনা করতে এখন পর্যন্ত কোনো সমন্বয়ক আসেনি। আমার যতটুকু সহযোগিতা করার করছি।