রাজধানীর গুলশানে আবাসিক ভবনে ভয়াভহ আগুনের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রাজু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর এলো। এরআগে রোববার রাতে আনোয়ার নামে একজন মারা গেছেন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও দুজন । তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এদিকে রাজধানীর গুলশানে আগুনের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গুলশানের অগ্নিকাণ্ডে আহতদের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সভা আজ দুপুরে বসবে। সেখান থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, রোববার রাতে তিনজন রোগী আমাদের এখানে এসেছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালকের স্ত্রীও আছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি ১১তলা থেলে লাফ দিয়েছিলেন। আমরা গত রাত থেকে আহত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
চিকিৎসাধীন রাজুর মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল আহাদ জানান, রাজু শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভোর ৪টার দিকে মারা যান। তিনি ভবনটিতে বাবুর্চির কাজ করতেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, গুলশানে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজন মারা গেলেন। গতকাল আনোয়ার নামে একজন এবং আজ আরেকজন মারা গেছেন। আরও দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিয়েছে।
ভবন থেকে চারজনের লাফিয়ে পড়ার বিষয়ে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা তাদের (ভবনের বাসিন্দা) বার বার বলেছি লাফ দেবেন না। তারা যদি লাফ না দিতো তাহলে নিহত হতেন না। যারা কষ্ট করে ছিলেন, লাফ দেননি, তাদের আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি। বৈদুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা্ন তিনি।
তিনি বলেন, ওই ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না এগুলো ফায়ার সার্ভিস ও রাজউকসহ অন্যান্য সংস্থা দেখবে। আমরা শুধু ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছি।
এর আগে রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটের দিকে গুলশান-২ নম্বরের ১০৪ নম্বর রোডে ১২ তলা আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে ক্রমান্বয়ে ইউনিট বাড়ানো হয়। এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ১১টার দিকে।