চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দশ বছর আগে মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুরের দুই মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শরিফুর রহমানের আদালত এই অভিযোগ গঠন করেন। ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ও ২৪ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটিতে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ৪৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। দুই মামলাতেই আসলাম চৌধুরীকে হুকুমের আসামি করা হয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড থানাধীন বটতল এলাকায় আসলাম চৌধুরীর নির্দেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা গাড়িতে আগুন দেন। এসময় বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় পুড়ে যাওয়া তিনটি গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন ১৭ নভেম্বর সীতাকুণ্ড থানার এসআই মো. সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলায় পুলিশ ৪৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। অন্যদিকে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর হরতালের সময় সীতাকুণ্ডের মাদামবিবিহাট এলাকায় দোকান ও বস্তিঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পরের দিন অন্য মামলাটি দায়ের করেন এসআই মো. মিজানুর রহমান। ওই মামলায় ৫৮ জনকে আসামি করা হয়। দুই মামলাতেই অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার প্রায় সাড়ে সাত বছর পর অভিযোগ গঠন করা হলো।
আসলাম চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এবং ওই ঘটনার সময় তিনি উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় এই যুগ্মমহাসচিব বর্তমানে কারাবন্দি।