গাড়ির চাপ বাড়লেও নেই যানযট ঢাকা সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে

সিরাজগঞ্জঃ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা শুরু করেছেন উত্তরাঞ্চালের মানুষ। বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তরের মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নির্ধারণ করে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উত্তর বঙ্গের প্রবেশদ্বার ঢাকা-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের ৪ লেনের উন্নতির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং সকল হাইওয়ে ওভার পাস খুলে দেওয়া হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মহাসড়কে উত্তরগামী গাড়ির চাপ বাড়লেও নেই যানযট বা নেই ধীরগতি। যানযট নিরসনের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা,১৭ টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নানান পদক্ষেপের পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের পরিকল্পনার উদ্যোগ নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানযট মুক্ত মহাসড়ক।  উত্তরগামী যানবাহন স্বাভাবিক ভাবেই চলাচল করছে। সিরাজগঞ্জ রোড হাটিকুমরুল গোল চত্বরে যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা রুটে ভাগ হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কে প্রাইভেট কারে সংখ্যা বেশি ছিল।

ফিটনেস বিহীন গাড়ি,থ্রী হুইলার মহাসড়কে উঠা নিষিদ্ধ থাকলেও আইনের ব্যক্ত ঘটিয়ে মহাসড়কে দাপটেই চলছে। এছাড়াও যানযট নিরসনের জন্য ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে মহাসড়ক তদারকি ও অতিরিক্ত ৮ শত পুলিশ সদস্য মোতায়েন এর মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিরাজগঞ্জ রোড হাটিকুমরুল গোল চত্বরে ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে ৪ টি মহাসড়ক তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

এবার ঈদে নাড়ির টানে উত্তরাঞ্চলে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে পুলিশ ভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও আধুনিকায়ন করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক হতে হাটিকুমরুল রোড গোল চত্বর পর্যন্ত সমস্ত ওভার ব্রীজ খুলে দেওয়া হয়েছে এছাড়াও সয়দাবাদ,কড্ডার মোড়,কোনাবাড়ী,সিমান্ত বাজার,কাশেম মোড়, নলকা,পাঁচলিয়া, সিরাজগঞ্জ রোড অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সহ বগুড়া, রাজশাহী ও পাবনাগামী মহাসড়কে বিশেষ নজরে রেখেছে পুলিশের বিশেষ টিম।

 

একতা পরিবহন এর বাস চালক আজম খাঁন জানান, ঈদের সামনে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়ক থেকে হাটিকুমরুল গোল চত্বর পর্যন্ত ২২ কিঃমিঃ আতঙ্কের। তবে আজকে কোন ধরনের যানযট নেই।

 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত থেকে গাড়ির সংখ্যা বেড়েই চলছে। ইতিমধ্যে মহাসড়কে যানযট নিরসনের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ শুরু করে দিয়েছে। এবছরে ঈদ যাত্রায় যানযটের আশঙ্কা নেই। গণপরিবহনের নিরাপত্তা ও নিশ্চিত চলাচলের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

 

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বলেন, ঈদে গাড়ির সংখ্যা বাড়ার কারণে মহাসড়কে যানযট সৃষ্টি হয়। যানযট নিরসনের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সহ হাইওয়ে থানার মোট ৮ শত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এবার ঈদে উত্তরাঞ্চালের ঘরমুখো মানুষ যেন সস্তিতে, যানযটের ভোগান্তি ছাড়া ঘরে ফিরতে পারে সেই লক্ষ্যে আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনি কঠোর ভাবে ভুমিকা পালন করবে।