গণতন্ত্র হরণকারীদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না: মির্জা আজম

গণতন্ত্র হরণকারীদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেছেন, অবৈধভাবে গঠিত বিএনপি আজ গণতন্ত্রের কথা বলে, গণতন্ত্র উদ্ধারের কথা বলে। গণতন্ত্র হরণকারীদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।

শুক্রবার (১৯ মে) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সপরিবারে হত্যার পর গভীর রাতে বঙ্গভবনে গিয়ে বিচারপতি সায়েমকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করিয়ে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

মির্জা আজম বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে’র আগ পর্যন্ত জিয়াউর রমান যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন এদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিলেন। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থেকে অত্যাচার-নির্যাতন, গুম, খুনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আইভী রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। তাদের সময়ে দুর্বিষহ দিন কাটিয়েছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

তিনি বলেন, আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, আন্দোলন করছেন। আওয়ামী লীগ তাদের বাধা দেয় না। এটাই গণতন্ত্র। এটাই বঙ্গবন্ধুকন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার মানবিকতা।

যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে রাজপথে থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছেন, সামনের দিনগুলোতেও একইভাবে রাজপথে থেকে বিএনপি-জামায়াতের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে দেশে অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, গুম, রাহাজানি বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা জনগণের পাশে আছি, তাদের বিপদে-আপদে সহায়তা করছি, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত। আর সেই কারণেই আজকের এই শান্তি সমাবেশ। বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিগোষ্ঠী যেন মানুষের জানমালের ক্ষতি সাধন, তাদের শান্তি নষ্ট করতে না পারে সেদিকে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনু। আরও বক্তব্য রাখেন, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।