খোলা বই আ’লীগের ইশতেহার

# উদ্যোগটা ভালো এবং সময়োপযোগী: রাশেদ খান মেনন # জনমত সংযুক্তির উদ্যোগ ইতিবাচক: নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ # মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে বেশি খুশি হবে: ড. বদিউল আলম মজুমদার # দলীয় নয়- এটা জাতীয় ইশতেহার: ড. সেলিম মাহমুদ

আওয়ামী লীগ পথ দেখায়, পথ তৈরিও করে এবং সে পথ গিয়ে যুক্ত উন্নয়নের মহাসড়কে। স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে গেলো ২০ বছরের বাংলাদেশ অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে আওয়ামী লীগ। এতো এতো উন্নয়ন করার পরও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বাধা পেরোতে হয়। পথে পথে সাজিয়ে রাখা দেশি-বিদেশি বহু পরাশক্তির হুঙ্কারকে পায়ে মারিয়ে এগোতে হয়। ঝুঁকি নিয়ে নেতৃত্ব দিতে হয়। জীবনকে বাজি রাখতে হয়। মা-মাটি-মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করা দলটির নাম আওয়ামী লীগ। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দলীয় ইশতেহার’কে ‘জাতীয় ইশতেহারে’ পরিণত করতে জনগণের মতামত দেয়ার সুযোগ রেখেছে দলটি। ইশতেহারে কি কি বিষয় যুক্ত হওয়া উচিত বা হতে পারে- এমন মতামত দেয়ার জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ই-মেইল এবং ফোন নম্বর যুক্ত করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে জনমত সংযুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে একেবারে নতুন সংযুক্তি। এর আগে কোন দল নির্বাচনী ইশতেহারে ‘জনমত‘ সংযুক্তির কোন সুযোগ রাখেনি। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন সংযোজন। ঐতিহাসিক মাইলফলকও। সাদাচোখে বলতে গেলে সময়ের দাবিও। অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ইশতেহার তৈরির এই সংযুক্তিকে স্বাগত এবং সাধুবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচকেরাও।

শিক্ষাবিদ, বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং জানিপপ-এর  চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ জনমত সংযুক্তির বিষয়টিকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবেই দেখছেন। দেশ বর্তমান প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি উদাহরণ সৃষ্টি করলো। জনগণের জন্য রাজনীতি, এবার রাজনীতিতে জনগণকে যুক্ত করে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করলো যে, জনগণের দল আওয়ামী লীগ। আসন্ন নির্বাচনে এই অন্তর্ভূক্তি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন তিনি। তিনি আরও যুক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সব ইতিহাস তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে, সুতরাং জনগণকে অন্তর্ভূক্ত করার এই উদ্যোগ আওয়ামী লীগের কাছেই প্রত্যাশিত।

এদিকে, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইশতেহারকে মানুষ ততটা মনে রাখে না যতটা মনে রাখের দলের কর্মকাণ্ডকে। তবে আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগটা ভালো এবং সময়োপযোগী।

অন্যদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এবং দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদারও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, সাধুবাদ দিয়েছেন। সেই সাথে তিনি দলটির প্রতি শুধু ইশতেহারই নয়, জনসাধারণের জন্য ভোটকেন্দ্রও উম্মুক্ত করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষ যদি ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তাহলে তারা আরও বেশী খুশি হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এর আগেও দিন বদলের সনদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহার করেছিলো বর্তমান শাসক দল। সেই সনদের প্রতিফলন খুব সামান্যই হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে, আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগ অত্যন্ত যুগপোযোগী বলেও মনে করেন তিনি। অন্য দলগুলো এই উদ্যোগ নিতে পারে বলেও জানান ড. বদিউল আলম মজুমদার।

আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন উপ-কমিটি সদস্য সচিব ড. সেলিম মাহমুদ দেশ বর্তমানকে জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আগেও জনগণের মতামত নিয়েই ইশতেহার তৈরি করেছে, তবে তা ছিলো অনানুষ্ঠানিক। বিভিন্ন সভা-সেমিনার-কর্মশালা-উঠোন বৈঠক থেকে নেয়া মতামত আমরা নিতাম দলীয় অঙ্গ সংগঠন, বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে। এবারই প্রথম সরাসরি মতামত দেয়ার সুযোগ তৈরি করা হলো। এটি আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ বলতে পারেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহার আসলে দলীয় কোন ইশতেহার নয়, এটি জাতীয় ইশতেহার। কারণ আওয়ামী লীগের ইশতেহার মানেই দেশের উন্নয়নের রূপরেখা। মানুষও তো দেশের উন্নয়নই চান। সুতরাং এটি মূলত জাতীয় ইশতেহার। ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল ভিত্তিই হবে ২০১৮ সালের ইশতেহারটি। এর সাথে যুক্ত হবে ২০৪১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডের পরিকল্পনা। তিনি বলেন, আগামী দিনে আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে টিকিয়ে রাখব এবং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকব, এ বিষয়গুলো ইশতেহারে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানেই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ মানেই আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার প্রণয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতায় স্মার্ট বাংলাদেশ নিমার্ণে ইশতেহার প্রণয়নের কাজ করছে দলটি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার থাকছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে। স্মার্ট বাংলাদেশের রূপরেখায় তরুণ-যুব সমাজের জন্য চমক থাকবে এই ইশতেহারে। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি বিষয়টি অগ্রধিকার পাবে। এছাড়া গুরুত্ব পাবে কৃষি, সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও শিল্পোৎপাদন খাত। থাকবে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ব্যাপক কর্মসূচি। বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল থাকবে আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে। তবে এবারের ইশতেহার হবে স্মার্ট ও সংক্ষিপ্ত আকারে।এদিকে ইশতেহার প্রণয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের কাছ থেকে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নে জনগণের মতামতেরও প্রধান্য দিতে চাচ্ছে দলটি। ইশতেহারে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এ সম্পর্কে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে মতামত চেয়ে এরই মধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সদস্যসচিব এবং আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ গণবিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিজ্ঞপ্তিতে, মতামত প্রেরণের ঠিকানা সদস্য সচিব, নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন উপকমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, সড়ক- ৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা।

জানা গেছে, এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ স্লোগানে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। ওই ইশতেহারে ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং ২১০০ সালে নিরাপদ ব-দ্বীপ পরিকল্পনার রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। ‘রূপকল্প ২০৪১’কে ধারণ করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১; স্মার্ট ডেল্টা বিনির্মাণে ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’, নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০, দশম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০৩১-২০৩৫, একাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০৩৬-২০৪০-এর বিস্তারিত থাকবে এবারের ইশতেহারে।