খাতুনগঞ্জে রসুন আদা ও পেঁয়াজের সংকট

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার ও আড়তে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার সংকট চলছে। রমজানে এই তিন পণ্যের সরবরাহ ও দর স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের পর থেকে উল্টো আচরণ করছে। কমে গেছে সরবরাহ, থামছে না উল্লস্ফন। রমজানে বাজার মনিটরিং কমিটি তদারকি করলেও এখন মাঠে নেই কমিটি।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পনেরো দিনের ব্যবধানে নিত্যপণ্য রসুন, আদা ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে এই চিত্র কেবল দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের। কোরবানের আগে এই তিন পণ্য পাইকারি বাজারে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে, আশংকা আমদানিকারকদের।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন,আমদানিকারকদের বাড়তি মুনাফার কারণে অস্থির হয়ে উঠছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার বাজার। তবে তা মানতে নারাজ আমদানিকারকরা।

তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রসুন, আদার সংকট ও বুকিং দর বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে। অন্যদিকে সরকার ভারত থেকে আমদানির পারমিট (অই.পি) বন্ধ করে দেওয়ায় ঝাঁজ ছড়ােেচ্ছ পেঁয়াজও।

দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক, আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা আমদানিনির্ভর পণ্য। বেশিরভাগ আদা ও রসুন আমদানি হয়ে থাকে চীন ও ভিয়েতনাম থেকে এবং পেঁয়াজের বাজার ভারতের দখলে।

রোববার (৭ মে) খাতুনগঞ্জ সরেজমিন দেখা গেছে ভারতীয় পেঁয়াজের দেখা নেই। বেশিরভাগ পেঁয়াজ দেশীয়। ঈদের আগে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজার ও আড়তে মানভেদে দেশীয় পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে ওঠা-নামা করেছে। বর্তমানে একই মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা। একই ভাবে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান, চীন ও হল্যান্ড থেকে আমদানি করা পেঁয়াজে।

গত ১৫ মার্চ থেকে সরকার পেঁয়াজ আমদানির জন্য আই.পি. (ইমপোর্ট পারমিট) বন্ধ করে দিলে পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়ে। তবে প্রশাসনের নজরদারির কারণে বাজার পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিলো। পেঁয়াজের পাশাপাশি বেড়েছে অন্য দুটি কাঁচাপণ্য আদা ও রসুনের দরও।

খাতুনগঞ্জে রোববার (৭ মে) প্রতি কেজি চীনা আদা বিক্রি হয়েছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। একদিন আগেও বাজারে একই মানের আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। গতকাল রসুন বিক্রি হয়েছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। একদিন আগে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। এই দুই পণ্যের দর বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া ও বুকিং খরচ বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন আমদানিকারকরা।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক মেসার্স জিয়াউর রহমান ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী জিয়াউর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, চীনা আদা ও রসুনের বুকিং খরচ বেড়ে গেছে বহু গুণ। তিন বলেন, গত পনেরো দিন আগে টন প্রতি চীনা আদার বুকিং খরচ পড়েছে ১৮শত থেকে দুই হ্জাার ডলার।

রোববার (৭ মে) চীনা আদার বুকিং খরচ ছিলো দুই হাজার ছয়শত ডলার। সে হিসেবে পনেরো দিনের ব্যবধানে টন প্রতি চারশত থেকে ছয়শত ডলার বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে কোরবানের আগে রসুন, আদার দাম আরও বাড়তে পারে, আশংখা এই আমদানিকারকের।

তার মতে, আমদানিকারকরা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রসুন ও আদার বাড়তি বুকিং খরচ দিয়ে মাল আমদানি করে মূলধন তুলতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের আড়তদার সৌমিক ট্রেডার্সের জসীম উদ্দীন বলেন, বাজারে এখন রসুন ও আদার যে চালান রয়েছে এগুলো ঈদের আগের। বর্তমানে বুকিং খরচ বাড়লেও আগামীতে দুই পণ্যের দর আরও বাড়বে। তিনি বলেন, আড়তদাররা ২-৩ টাকা মুনাফায় পণ্য ছেড়ে দিচ্ছে। আমদানিকারকরা খরচ কমালে পাইকারি বাজারেও খরচ কমবে।

আন্তর্জাতিক বাজার দর বিশ্লেষণে দেখা যায়, রসুনও একই আচরণ করছে। বিশ দিন আগে টন প্রতি রসুনের বুকিং খরচ পড়েছে আটশত ডলার। গতকাল রোববার বুকিং খরচ ছিলো টন প্রতি এক হাজার ৮৪০ ডলার। বিশ দিনের ব্যবধানে টন প্রতি বেড়েছে ছয়শত আশি ডলার। আমদানিকারকরা বাড়তি বুকিং খরচ দিয়ে রসুন আমদানি করতে ঝুঁকি নিতে চাইছে না। আদা ও রসুনের দাম উর্দ্ধগতি হলেও বাজারে সরবরাহ কম। বেশির ভাগ আড়তে রসুন ও আদা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বেশি হওয়ার কারণে আমদানিকারকরা রসুন-আদার আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া রয়েছে এলসি (ঋণপত্র) জটিলতা। সরবরাহ না বাড়লে এই তিন পণ্যের বাজার কোরবানের আগে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠতে পারে, আশংকা ব্যবসায়ীদের।