ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায়সহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ মে) বেলা ১১টার দিকে জিনজিরা বাস রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিপুণ রায়কে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
বিএনপির কিছু উত্তেজিত নেতাকর্মী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পরিকল্পিতভাবে হামলার অভিযোগ আওয়ামী লীগের। আর বিএনপি নেতারা বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের বৈশিষ্ট্য আওয়ামী লীগের।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ম. ই. মামুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নিপুণ রায়ের নেতৃত্বে আমাদের পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে। আজকে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। কেরানীগঞ্জে সমাবেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির আরও নেতা-কর্মীরা ছিলেন। সভা শেষ করে যাওয়ার সময় পথে আমাদের পার্টি অফিসে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে আমাদের পার্টি অফিসে ঢুকে আমাদের লোকদের ওপর হামলা করেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজও আছে আমার কাছে। সেখানে দেখা যায় নিপুণ রায় ইটপাটকেল ছুড়ে শাড়ি উঁচিয়ে দৌড়াচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ১৫ জনের মতো নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজাহার বাঙালি।
তবে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশাক বলেন, ‘জিনজিরা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিলাম। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান ও ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে নিপুন রায়সহ আমাদের অন্তত ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মামলাহামলা দিয়ে আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে জনগণ এর জবাব দেবে।’
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির অতি উৎসাহী কিছু কর্মী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা করেন। এর আগে সংঘর্ষে ও ইটের আঘাতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে অধীনস্থ আদালত ও সরকারের অবজ্ঞা, গায়েবি মামলায় নির্বিচারে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, আওয়ামী সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা জেলা বিএনপি গণসমাবেশ করছে।