কেডিএস চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানেই ভরসা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের

উপর্যুপরি ষষ্ঠবারের মত সভাপতি নির্বাচিত

নিভৃত পল্লীর সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। উত্তরাধিকার সূত্রে নগদ কোনো সম্পদও ছিলো না। যা কিছু অর্জন এবং সৃষ্টি নিজের একক অবদান আর পরিশ্রমের ফসল। তাঁর ব্যক্তি এবং ব্যবসায়িক ইমেজ দেশের ভৌগলিক সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব পরিমণ্ডলে সমাদৃত। শূন্য থেকে আজ বিশাল এক শিল্প সাম্রাজ্যের মালিক। দেশের শিল্পায়ন আর অযুত কর্মসংস্থানের অগ্রনায়ক। দেশের চলমান অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহের এক ‘মহাচালিকা শক্তি’। বয়স কিন্তু এখন আশি ছুঁই ছুঁই। শারীরিক গঠনেই বয়সের ছাপ ফুটে ওঠেছে। কিন্তু নেই কোনো ক্লান্তি। জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসেও সামলাচ্ছেন ৩২টি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সমাজের অধিকার আদায়, নানা সংকট এবং সংকট উত্তরণের রূপরেখা দিয়ে দেশের অর্থনীতির হাল ধরেছেন এই প্রৌঢ় বয়সেও। একঝাঁক দেশসেরা ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত ব্যবসায়িক ফ্ল্যাটফর্ম- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের হাল ধরেছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। এবারও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ-কেডিএস গ্রুপের কর্ণধার খলিলুর রহমানের উপরে ভরসা রাখলেন দেশের অর্থনীতির নীতি-নির্ধারকরা। ৬ষ্ঠ মেয়াদে চট্টগ্রাম মেট্রোাপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি হলেন। সাথে দেশের নেতৃস্থানীয় একঝাঁক ব্যবসায়ী।

গত শনিবার (১০ জুন) সিএমসিসিআই মিলনায়তনে ২০২৩-২০২৫ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত পরিচালকরা সিএমসিসিআই ইলেকশান বোর্ডের উপস্থিতিতে অফিস বিয়ারার নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচনে কেডিএস গ্রুপের খলিলুর রহমান টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরো ৪২জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আগামী দুই বছর মেয়াদের জন্য শওকত আলী চৌধুরী ১ম সহ-সভাপতি (নামরীন এন্টারপ্রাইজ লি:), সহ-সভাপতির মধ্যে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদ, এ এম মাহবুব চৌধুরী (আরাফাত ফ্যাশন গার্মেন্টস লি:), এম এ মালেক (দৈনিক আজাদী সম্পাদক), মোহাম্মদ আবদুস সালাম (মীর পাল্প অ্যান্ড পেপার ইন্ডা: লি:) এবং জসিম উদ্দিন চৌধুরী (দি পূর্বকোণ লিমিটেড) নির্বাচিত হন। এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।

অন্য পরিচালকেরা হলেন মো. সাহাবউদ্দিন আলম, আবুল বশর চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল,মোহাম্মদ আমিনুজ্জামান ভূঁইয়া, শফিক উদ্দিন, আবুল কালাম, ডা. মহসিন জিল্লুর করিম,সেলিম রহমান, ইকবাল হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ নূরুল আবছার,মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ, প্রফেসর আহসানুল আলম পারভেজ,এস.এম. শামীম ইকবাল, এইচ.এম. হাকিম আলী,নাদের খান,প্রফেসর জাহাঙ্গীর চৌধুরী,সৈয়দ নূরুল ইসলাম,লিয়াকত আলী চৌধুরী,মোহাম্মদ এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন, হাজী এম.এ. মালেক, এস.এম.আব্দুল হাই, সৈয়দ মোহাম্মদ আবু তাহের, আলহাজ¦ মোহাম্মদ শফি, আবু সাঈদ চৌধুরী, ডব্লিউ.আর.আই মাহমুদ রাসেল, মোহাম্মদ মহসিন, সুলতানা শিরিন আক্তার, মোহাম্মদ দিদারুল আলম,আমির আলীহোসেন,আহমেদুল হক, এম. সোলায়মান এফসিএমএ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অজিত কুমার দাশ এবং জনাব বোরহানুল এইচ চৌধুরী।

নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমান আগামীতে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে মেট্রোপলিটন চেম্বারের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

দেশের শতবর্ষী ব্যবসায়িক সংগঠন-চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্টি (সিসিসিআই) থেকে বের হয়ে দেশের বেশ কয়েকজন নামকরা শিল্পপতি ২০১০ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি গঠন করেন। বড় পরিসরে মেজবান দিয়ে রাজকীয় অভিষেক হয়েছিল এই চেম্বারের। শুরুতে ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে সভাপতি করে এ চেম্বারের যাত্রা। পরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলে তিনি মেট্র্ােপলিটন চেম্বারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। মেট্রোপলিটন চেম্বারে আবদুচ ছালামের কর্মকাল এক বছরের বেশি সময় ছিলো না। পরবর্তীতে কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

জনশ্রুতি রয়েছে, চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় বেশকিছু ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে মেট্রোপলিটন চেম্বার গঠন করা হয়। যে লক্ষ্য নিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বারের যাত্রা শুরু হয়, সেটির সফলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও শীর্ষ এই ব্যবসায়িক সংগঠনে খলিলুর রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে গত একযুগে কোনো প্রশ্ন দেখা দেয়নি। এ প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন চেম্বারের একজন পরিচালক বলেন, তিনি বৃদ্ধ বয়সে যেভাবে চেম্বারকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটি অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এটি সুখী একটি পরিবার। এখানে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা দেশের অর্থনীতির নীতিনির্ধারণে সহায়ক হয় এমন কাজ ও সুপারিশ করে যাচ্ছে মেট্রোপলিটন চেম্বার।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে খলিলুর রহমান নিজস্ব ব্যবসার পাশাপশি চেম্বারকেও এখনও আগলে ধরে আছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নানা দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন ক্লিন ইমেজের এই ব্যবসায়ী। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দেশের পণ্য ব্র্যান্ডিংয়ের ব্রত নিয়ে প্রতি বছর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, খলিলুর রহমান ব্যবসা ও শিল্পখাতে অবদানের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ২০১৫ সালে ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইনফরমেশন এন্ড হিউমেন রাইটস্ ফাউন্ডেশন কর্তৃক ২০১৪ সালে মাদার তেরেসা হিউম্যান রাইট গোল্ড এওয়ার্ড পুরস্কারও অর্জন করেন এ শিল্প পথিকৃৎ। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সাঁইদাইর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই ব্যবসায়ী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি থেকে দেশের স্বনামধন্য শিল্পপতি। ব্যবসা-বাণিজ্যের জটিল সমীকরণকে আয়ত্তে এনে গড়ে তুলেছেন ৩২টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লক্ষ লোক কর্মরত। তৈরি পোশাক রফতানিতে কোয়ালিটির শ্রেষ্ঠত্বের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠান একাধিকবার গোল্ডেন ট্রফি ফর কোয়ালিটি অর্জন করে। তিনি মেট্রোপলিটন চেম্বার ছাড়া ব্যাংক, বিমা ও লজিস্টিক খাতের সাথে জড়িত। এমপি-মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজনীতির প্রতি তিনি কখনও আকৃষ্ট হন নি। শিল্প বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি সমাজসেবা করছেন।

এমএফ