কারাগারে ইমরানকে বিষ প্রয়োগ করা হতে পারে: বুশরা বিবি

দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি জানিয়েছেন, তার আশঙ্কা ইমরানের খাবারে বিষ মেশানো হতে পারে।

তোশাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছরের সাজা পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।  সেই সঙ্গে তাকে পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন দেশটির একটি আদালত।  ইমরানের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হয়।  এ মামলায় ইমরানকে এক কোটি রুপি জরিমানাও করা হয়।

তাকে বর্তমানে পাঞ্জাবের আটোক বিভাগীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

জেলখানায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া খাবারে বিষ প্রয়োগের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে চিঠি লেখেন বুশরা।  এতে তিনি ইমরানকে আটোক থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তরের আবেদন করেন।

শুক্রবার (১৮ আগস্ট) বুশরা বিবির সেই চিঠির বিষয়টি প্রকাশ করে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো।

চিঠিতে বুশরা নিজের আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দল পিটিআইয়ের বর্তমান চেয়ারম্যান ইমরান খানের জীবন হুমকির মুখে আছে। তিনি ইতোমধ্যে দুইবার হামলার শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে অস্ত্র হামলাও রয়েছে। ’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘উল্লেখযোগ্য হলো খাবারের মাধ্যমে জেলে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হতে পারে।  কারণ আগের হামলাকারী ও এর পরিকল্পনাকারীরা এখনো সংখ্যায় অনেক বড় এবং তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেনি।’

বুশরা বিবি চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, ইমরানের সেলে ঘরের রান্না করা খাবার নিতে দেওয়া হচ্ছে না।  যা আইন ও তার মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেছেন, ইমরান খান বি ক্যাটাগরির সেলে থাকার অধিকার রাখেন।  কিন্তু তাকে এমন সেলে রাখা হয়েছে যেখানে সাধারণ সুযোগ-সুবিধাও নেই।  যা জেল কোডের পরিপন্থি।

তিনি অনুরোধ করেছেন ইমরানকে যেন বি ক্যাটাগরির সেলে নেওয়া হয়, ঘরের খাবার খাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়।

শুধু বুশরা বিবি নয়, কারাগারে ইমরান খানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান তেহরিক-ইনসাফও।  গত সপ্তাহে দলের একটি কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  কারাবন্দি দলীয় প্রধানকে বিষ প্রয়োগ করে ধীরে ধীরে হত্যা করা হতে পারে বলে দলের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ইমরানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় পাওয়া উপহার রাষ্ট্রীয় তোশাখানায় জমা না দিয়ে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়।  সেই মামলায় আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে।