কানাডায় ভয়াবহ দাবানল, শহর ছাড়তে মরিয়া শত শত মানুষ

কানাডার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল।  কানাডার উত্তরাঞ্চলীয় নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিতে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল ধেয়ে আসছে রাজধানী ইয়েলোনাইফের দিকে।  এতে শহরটি ছাড়তে মরিয়া শত শত মানুষ।  আগুন থেকে বাঁচতে সেখানের বাসিন্দারা নানাভাবে এলাকা ছাড়ছে।

তবে শহরের অধিবাসীরা উদ্ধারকারী উড়োজাহাজে আরোহণ করতে না পারায় অনেক ক্ষুব্ধ।  বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) যারা দীর্ঘ সময় ধরে বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাদের আবারও শুক্রবার (১৮ আগস্ট) বা শনিবার (১৯ আগস্ট) চেষ্টা করতে বলেছেন কর্মকর্তারা।

একইসঙ্গে দেশটির বড় দুটি এয়ারলাইন্সও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভাড়া ও টিকেট পরিবর্তন ফি বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) বিমানের আসন বুক করার জন্য শত শত মানুষকে স্থানীয় একটি স্কুলে লাইন ধরতে দেখা গেছে। তবে এদিন বিকেল বেলা স্থানীয় সরকারের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আমি কেনেডি জানান, উদ্ধারকারী বিমানে করে চারশর বেশি বাসিন্দাকে সরানো সম্ভব নয়।  তবে শুক্রবার সেখানকার মানুষকে সরিয়ে নিতে অন্তত ২২টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়োলোনাইফ থেকে বিমানে করে ৫ হাজার মানুষকে সরাতে হবে।  কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বিমানের সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

এদিকে এ ধরনের দাবানল মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে কানাডার।  বিশেষ করে বছরের এ সময়টায় সেখানে দাবানল জ্বলে ওঠে।  তবে এ বছর অন্য বছরের তুলনায় বসন্তের সময় বেশি গরম ও শুষ্কতা দেখা গেছে।  আর এ কারণে দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।

বুধবার (১৬ আগস্ট) দিনের শেষ দিকে দাবানলের আগুন ইয়োলোনাইফ শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে ছিল।  ওই সময় বলা হয়েছিল, শুক্রবারের মধ্যে এটি শহরের উপকণ্ঠে চলে আসবে।  ফলে শহরের বাসিন্দাদের এই সময়ের মধ্যেই সরে যেতে বলা হয়েছে।  তাই অনেকে নিজেদের গাড়িতে করে সরে যাচ্ছেন।  কিন্তু যাদের গাড়িতে করে সরার উপায় নেই তারা এখন বিপদে পড়ে গেছেন।

উল্লেখ্য, কানাডা এবার সবচেয়ে মারাত্মক দাবানল মৌসুম পার করছে।  দেশজুড়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ১১শ দাবানল সক্রিয় আছে। এর মধ্যে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলেই দুই শতাধিক।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে যা দাবানল বাড়িয়ে তুলছে।