কাউন্সিলর জসিম ও চসিকের ৩ প্রকৌশলীসহ দায়ী ৭ জন
চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের আকবর শাহ এলাকায় পাহাড় ধসে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সিটি করপোরেশনের তিন প্রকৌশলী ও কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাদের অভিযুক্ত করা হয়। গত ৪ মে জেলা প্রশাসকের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাকিব হাসান দেশ বর্তমানকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কাউন্সিলর জসিম ছাড়া অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন-সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ও আকবর শাহ এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালি আহমেদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবি হক ব্রাদার্সের ওমর ফারুক ও তাকিয়া বেগম এবং মোহাম্মদ ইসমাইল।
জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান রাকিব হাসান দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘ সিটি করপোরেশনের প্রকল্প বাস্তবায়নে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য মাটি কাটতে গিয়ে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এ প্রকল্পের সাথে সিটি করপোরেশনের যেসব কর্মকর্তা সম্পৃক্ত ছিল তারা কেউ এ ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। এ ঘটনার জন্য আমরা তাদেরকে অভিযুক্ত করেছি। একই সাথে পাহাড় ধস রোধে সাতটি সুপারিশ করেছি।’
পাহাড় ধসের ঘটনায় অভিযুক্ত এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গত ১১ এপ্রিল মামলা করেছিলো পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু কেবল মামলা করে দায় সেরেছে সংস্থাটি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়নি।
জানা গেছে, পাহাড় ধসের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়ের কাছে তার কারণ জানতে চেয়েছেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
গত ১৮ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক সিএমপি কমিশনারের কাছে এই প্রশ্ন রাখেন। ওই সভায় জেলা প্রশাসক বলেছেন, পাহাড় কাটার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মামলা হওয়ার পরও গ্রেফতার না করায় তারা প্রশ্রয় পাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, শুধু সিএমপি কমিশনার নয়, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘আমরা পাহাড় ধসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেছি। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানদের অনুরোধ করেছি। এখন তারা যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় আমার কী করার আছে।’
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো সরকারি দপ্তর সংস্থার ও ব্যক্তি মালিকাধীন। বিশেষ করে রেলওয়েকে তাদের পাহাড় রক্ষায় তাদেরকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যক্তি মালিকাধীন পাহাড়গুলো রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরকে ভূমিকা রাখতে হবে। এরপরও কেউ পাহাড় কাটলে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেয়।’
গত ৭ এপ্রিল বিকেলে আকবর শাহ বেলতলী ঘোনায় পাহাড় কাটার কারণে মাটি ধসে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার ছয়দিন পর গত ১১ এপ্রিল নগরীর আকবর শাহ থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাছান আহম্মদ বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
জানা গেছে, আকবরশাহ বেলতলী ঘোনায় ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কাজ করছে সিটি করপোরেশন। ওই প্রকল্পের আওতায় পাহাড় কেটে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিলো সেখানে। জেলা প্রশাসন পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা মানেনি সিটি করপোরেশন। ওই কাটা অংশে গত ৭ এপ্রিল পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। বেলতলী ঘোনার পাহাড়তলী মৌজায় প্রায় ১১ একর আয়তনের পাহাড়টির মালিক ‘অগ্রণী ব্যাংক অফিসার্স কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি’। স্থানীয় কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবি হক ব্রাদার্সের ইসমাইল পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ তত্ত¡াবধান করছিলেন।
এদিকে পাহাড় ধসের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলো। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই কমিটি তাদের তদন্ত শেষ করতে পারেনি। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম দেশ বর্তমানকে এ তথ্য জানিয়েছেন।