কর্ণফুলী নদী পারাপারে ভোগান্তির আরেক নাম ১৫ নং ঘাট। অন্য কোনো উপায় না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সুযোগ সন্ধানী ইঞ্জিনচালিত বোটগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে নদী পারাপার করতো। বাড়তি ভাড়া আদায় করে একই সুযোগ নিয়েছিল ইজারাদারও।
ঘাটে যাত্রীদের হয়রানি, বাড়তি ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে গত রবিবার সরেজমিনে ঘাট পরিদর্শন করেন আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক ইমন।
পরে এসব বিষয় নিয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে ঘাটের ইজারাদার ও সাম্পান মালিক সমিতির সাথে জরুরি বৈঠক করেন ইউএনও। বৈঠকে প্রতি নৌকায় ২০ জন যাত্রী, প্রতি যাত্রীর ভাড়া ২০ টাকা ও ঘাট ভাড়া ৩ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়।
এ সময় বৈঠকে বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নোয়াব আলী, ইউপি সদস্য ফরহাদসহ ইজারাদার ও মালিক সমিতির লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, এই ঘাট ব্যবহার করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, পটিয়াসহ কয়েকটি উপজেলার হাজার হাজার যাত্রী কর্ণফুলী নদী পারাপার করেন।
স্থানীয় ও যাত্রীদের অভিযোগ, ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো চালিত হচ্ছে অদক্ষ চালক দিয়ে। নদীর এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নদী পার হয়ে থাকেন। নদীর পাড়েও যাত্রী ওঠানামায় রয়েছে নানা সমস্যা। ঘাটে ইজারাদাররা মানুষের তুলনায় প্রয়োজনীয় নৌকা না রাখায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। অন্য উপায় না থাকায় যাত্রীরাও চড়তে বাধ্য হন এসব বোটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক ইমন বলেন, ঘাটে যাত্রীদের হয়রানি, বাড়তিভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইসহ নানান অভিযোগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাড়া ও যাত্রী নির্ধারণ করে ইজারাদার ও সাম্পান মালিক সমিতিকে নিয়ে বৈঠক করা হয়। এতে নৌকায় ২০ জন যাত্রী, একজন যাত্রী ভাড়া ২০ টাকা ও ঘাট ভাড়া ৩ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়।