কয়েক দিন ধরে কেরানীগঞ্জে অসহনীয় লোডশেডিং

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ৩-৪ দিন ধরে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অগাস্ট) দুপুরে কেরানীগঞ্জের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়। তারা জানান, সারা দিনই বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার মধ্যে আছে। এক-দেড় ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ আসে, আবার ৩০ মিনিটে থাকার পর চলে যায়।

স্থানীয় জয়নাল বলেন, ‘আজকে ৪ দিন দরে ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে ২ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। সবচেয়ে কষ্ট হয় রাতে যখন ঘুমাতে যাই, তখন বিদ্যুৎ চলে গেলে। কী যে কষ্টে আছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’

কেরানীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর জিএম মো. জুলফিকার জানান, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর এলাকা হওয়ায় কেরানীগঞ্জে অন্যান্য জেলা-উপজেলার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। এ জন্য এখানে লোডশেডিং অনেক কম ছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ বণ্টনে সমাহার নিশ্চিত করায় কেরানীগঞ্জে হঠাৎ করে লোডশেডিং বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, তাছাড়াও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। ইউনিক মেঘনা ঘাট ৬৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল, বর্তমানে তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে না। সামির মেঘনা ঘাট ৫৮৩ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল, বর্তমান তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে না। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৫৭৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল, বর্তমান তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে না। আদানি পাওয়ার ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াটের স্থলে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এসএস পাওয়ার আগে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করত, বর্তমান ৬১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এলাকা ভেদে প্রতি এক-দেড় ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হবে। অর্থাৎ একটি এলাকায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তীতে এক ঘণ্টা থাকবে না।

কেরানীগঞ্জ জনবহুল এলাকা, এখানে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি। তাই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।