কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের চাপ

ঈদ যাত্রা

ঈদুল আজহার বাকি আর দুই-একদিন। গ্রামে পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করতে ঢাকা ছাড়বেন লাখো মানুষ। ঈদযাত্রায় রাজধানীর কমলাপুরে বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। তবে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ থাকলেও এবার তেমনটি দেখা যায়নি কমলাপুর রেল স্টেশনে।

সোমবার (২৬ জুন) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, লাইন ধরে প্লাটফর্মে প্রবেশ করছেন যাত্রীরা। এ সময় যাদের কাছে টিকিট ছিল না, তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় টিকিটের ব্যবস্থা শতভাগ অনলাইন পদ্ধতিতে চালুর কারণে বিগত সময়ের মতো স্টেশনে রাত জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি যাত্রীদের। তবে যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেননি, তাদের জন্য স্টেশনে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানেও তেমন ভিড় নেই। সহজেই টিকিট কেটে গন্তব্যে যেতে পারছেন তারা। স্টেশনে ঢুকতে তিনটি তল্লাশি চৌকি পার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্টেশনের ভেতরে নেই হট্টগোল। টিকিটধারীরা নির্ধারিত ট্রেন এলেই উঠছেন।

অন্যদিকে এবারের ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনেও নেই কোনো অভিযোগ। যথা সমায়েই ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে স্ব স্ব গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কথা হয় ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রী সুমনা রহমানের সঙ্গে। বলেন, স্টেশনে আধা ঘণ্টা আগে পৌঁছে দেখি প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। অন্যবারের মতো ট্রেন বিলম্ব করছে না। স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারব ভেবেই ভালো লাগছে।

জামালপুরগামী যাত্রী লুনা বলেন, চার বছর পর গ্রামে যাচ্ছি। আগে গ্রামে যাওয়ার কথা মনে হলেই ভোগান্তি চোখে ভেসে উঠতো। এবার তেমন কোনো সমস্যা দেখছি না। আগে থেকেই টিকিট পাওয়ায় এসব ঝামেলা আর হচ্ছে না।

এর আগে গত ১৪ জুন থেকে আন্তনগর ট্রেনের ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ জুন দেয়া হয় ২৪ জুনের টিকিট। একইভাবে ১৫ জুন দেয়া হয় ২৫ জুনের, ১৬ জুন ২৬ জুনের, ১৭ জুন ২৭ জুনের এবং ১৮ জুন দেয়া হয় ২৮ জুনের অগ্রিম টিকিট।

আর ঈদযাত্রার ট্রেনের ফিরতি অগ্রিম টিকিট দেয়া শুরু হয় ২২ জুন থেকে। সেই হিসাবে ২২ জুন দেয়া হয় ২ জুলাইয়ের টিকিট। যথাক্রমে ২৩ জুন ৩ জুলাইয়ের, ২৪ জুন ৪ জুলাইয়ের, ২৫ জুন ৫ জুলাইয়ের ও ২৬ জুন ৬ জুলাইয়ের টিকিট দেয়া হচ্ছে ফিরতি ট্রেনের টিকিট।

এবারও ঈদযাত্রায় আসনবিহীন বা স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হবে মোট আসনের ২৫ শতাংশ। ঢাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশন থেকে এসব টিকিট পাওয়া যাবে। শুধু যাত্রা শুরুর দিন আসনবিহীন টিকিট স্টেশনের কাউন্টার থেকে কেনা যাবে। এবার ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ২৯ হাজার আসনের টিকিট বিক্রি হবে। আর কমিউটার ও আন্তঃনগর মিলে প্রায় ৫০ হাজারের অধিক মানুষ ঢাকা ছাড়বেন আজ।

এবার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট শতভাগ অনলাইনে দেয়া হলেও টিকিট বিক্রিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। অনলাইনে দুই ভাগে দেয়া হয় অগ্রিম টিকিট। ঈদযাত্রায় পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করা সব আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট অনলাইনে পাওয়া যায় সকাল ৮টা থেকে। আর দুপুর ১২টা থেকে পূর্বাঞ্চলে চলাচল করা ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, সকাল থেকে সবগুলো ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। অনলাইনে আগেই সব টিকিট বিক্রি হয়েছে। মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হচ্ছে কাউন্টার থেকে। যাত্রীদের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে স্টেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। টিকিট ছাড়া কাউকে প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এমএইচএফ