কমলগঞ্জে সরকারি গাছ চুরির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে সরকারি গাছ চুরির প্রতিবাদ করায় এক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীর ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ফজলুল করিম (৪১) বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের আধকানি গ্রামের মৃত মহব্বত আলীর ছেলে ফজলুল করিমের প্রতিবেশী রশিদ মিয়ার ছেলে ময়নুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে পাচার করে আসছিলেন। সম্প্রতি আধকানি এলাকায় আবুল কালাম বাবুর বাড়ির সামনে থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবিদুর রহমান দেখে ফেলেন এবং বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বনবিভাগকে জানান। পরে বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে পাচারকৃত গাছ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ময়নুল ইসলাম আদমপুর বাজারে আবিদুর রহমানের পথরোধ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন। এর জেরে ভুক্তভোগী ফজলুল করিম বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিবাদীপক্ষের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, ময়নুল ইসলাম, জমসেদ এলাহী ও তারেক মিয়া দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় ফজলুল করিম ও আবিদুর রহমান গুরুতর আহত হন। ফজলুল করিমের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে ফজলুল করিমের কপালে ৬টি সেলাই দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী ফজলুল করিম বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকারি সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতা করেছি। কিন্তু অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বেপরোয়া। তারা পুলিশসহ কাউকেই তোয়াক্কা করে না এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গেও অসদাচরণ করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ রাজকান্দি রেঞ্জের বিট অফিসার অর্জুন কান্তি জানান, সামাজিক বনায়নের আওতাভুক্ত গাছ কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। বনবিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা হয়েছে, খবর পেয়ে তা উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটিকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বনবিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবে।

এদিকে অভিযুক্ত ময়নুল ইসলাম কে একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।