কবিরাজ সুলাল হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে রাউজান থানার চিকদাইর গ্রামে কবিরাজ সুলাল চৌধুরী হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রাম তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এইচ এম শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় অপরজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মিঠু চৌধুরী, সুমন চৌধুরী, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. এরশাদ হোসেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন সুদীপ চৌধুরী এবং মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ইলিয়াস ইলু।

চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘রাউজানের কবিরাজ সুলাল হত্যা মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার রায় দেয় আদালত। রায়ে চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অন্য এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘রায় ঘোষণার সময় শুধু মো. দেলোয়ার হোসেন ও সুদীপ চৌধুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত রায় ঘোষণা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করে জেল হাজতে প্রেরণ করে এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করেন।’

আদালত সূত্র জানায়, সুলাল চৌধুরী রাউজান উপজেলার আজাদী বাজারের যুগিরহাট চাউল বাজারে অভয়া উষধালয় নামে একটি ফার্মেসি চালাতেন এবং কবিরাজি পেশায় ছিলেন।

২০১৬ সালের ২৫ জুন রাতে ফার্মেসির কাজ শেষে রিকশায় বাড়ি ফেরায় ফেরার পথে নোয়াজিশপুর চিকদাইর সড়কের নীল কমল কবিরাজের বাড়ি সংলগ্ন প্রিয়তোষ চৌধুরী চেয়ারম্যান বাড়ির পশ্চিমে পৌঁছলে মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রকাশ ইলুসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তার গলায়, মাথায় ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রাস্তার পাশের ডোবায় ফেলে চলে যায়। ওইদিন রাত ১০টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার তিনদিন পর তার ছেলে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।