দেশে বিরূপ আবহাওয়ার মাঝেও বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পাওয়া যাবে ১০ লাখ টন বাড়তি ধান। ধান কাটার আধুনিক মেশিন কেনাসহ সরকার কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এটা সম্ভব হচ্ছে। এমনটাই জানালেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।
মন্ত্রী দুঃখ করে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা অনেকেই মনে করেন, উন্নয়ন মানেই রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিল্ডিং কিংবা বড় বড় অবকাঠামো তৈরি। একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হওয়া সত্তে¡ও কৃষির উন্নয়নকে অনেকে উন্নয়নই মনে করেন না। সরকার এই সেক্টরকে অনেক সুবিধা দিয়েছে। হাওর এলাকায় লোকবল সংকটের কারণে সরকার কৃষকদের ৭০% ভর্তুকিতে ধান কাটার মেশিন দিয়েছে। অত্যাধুনিক একেকটি ধান কাটার মেশিনের দাম ২৮ লাখ টাকা। অথচ এগুলো কৃষক পাচ্ছেন মাত্র ৮ লাখ টাকায়, বাকি ২০ লাখ টাকা সরকার দিচ্ছে। এটি একটি বিরল ঘটনা।’
ড. আবদুর রাজ্জাক রোববার (৩০ এপ্রিল) গণমাধ্যমের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৯ লাখ ৭৬ হেক্টর জমিতে। কিন্ত উৎপাদন হয়েছে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল। মাঠের ধানের অবস্থা খুব ভালো। এছাড়া ইতোমধ্যে হাওরের ধানও কাটা সম্ভব হয়েছে। তাই আশা করা যাচ্ছে, এবার ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদন হবে।
তিনি আরো জানান, মেশিন ব্যবহার করায় হাওর এলাকার ধান দ্রæত কাটা সম্ভব হয়েছে। এই মুহূর্তে হাওরের ৭টি জেলায় ৩৮০০ কম্বাইন হারভেস্টার এবং ৬৭০টি রিপার দিয়ে ধান কাটা চলছে। পাকা ধান যেন দ্রুত কাটা সম্ভব হয় সেজন্য সরকার ৭০% ভর্তুতিতে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়েছে। কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন। নানান কারণে এ বছর কৃষক ভালো দামও পাচ্ছেন। ধান কাটার পর তারা ক্ষেত থেকেই ৯০০ থেকে ১১০০-১২০০ টাকায় পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারছেন।
সচিবালয়ের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে কৃষি সচিব ওয়াহিদা আকতার এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।