এবার অগ্নিকান্ড নিয়েও দোষারোপের রাজনীতি

বঙ্গবাজারের অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে।  এ নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক।  একে অপরকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ব্যর্থতাতে দূষছে।  বিএনপি বলছে, এই দায় সরকারের।  অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি নাশকতা করিয়েছে কি-না খতিয়ে দেখা হবে।এখন বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিনত করেছে তারা।

এ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে দায়ি করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার কোথাও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।  তাই একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে।  বঙ্গবাজারে অগ্নিকান্ডে হাজার কোটি টাকার কাপড় পুড়ে গেছে।  কিছুদিন আগেও সিদ্দিক বাজারে অগ্নিকান্ডে ২২ জন নিহত হলেন।  এরপর মানুষকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, তার কোনো পরিকল্পনা নেই।

সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সব ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।  এর আগে আরও বর্ণনাতীত ঘটনা ঘটেছে।  এর কারণ হলো সরকারের যারা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছে, তারা উপযুক্ত নন।  তারা কী এমন উন্নয়নের কাজ করছে যে আগুন নেভানোর মতো বিভাগ পর্যন্ত তাদের নেই। বঙ্গবাজারে ৪০টির বেশি ফায়ার সার্ভিস কাজ করেও আগুন নেভাতে পারেনি।  সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উদাসীনতা, অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও নজরদারির অভাবের কারণে ভয়াবহ পরিণতির স্বীকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।  মির্জা ফকরুল ব্যবসায়ীদের ক্ষয়-ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং সকল বাজারে অগ্নি নির্বাপণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকার তামাশা করছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৫ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।  ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়।  তাদের লাখ-লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।  ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনুদান দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।  তবে এখনও কত টাকা দেওয়া হবে, তা ঘোষণা হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সব দোকান পুড়ে গেছে। এটা একটা দুর্ঘটনা। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হছেন। তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে আমরা চেষ্টা করব।

অগ্নিকান্ড নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরাজনীতির বহি:প্রকাশ বলে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উদ্ধারকাজসহ কোনো ধরনের সহায়তার উদ্যোগ নেয়নি বিএনপি।  তারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে না। জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।  তারা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব না করে শুধু ঘরে বসে থেকে বিবৃতি প্রদান করে।  এ রকম ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য তাদের চিরাচরিত অপরাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারি সংস্থাসমূহের সদস্যরা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মালামাল রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।  অথচ এরকম ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনায় সেখানে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় সাহায্য করা বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মালামাল রক্ষায় এগিয়ে আসা- এধরণের কোনো উদ্যোগ বিএনপি গ্রহণ করেনি।  বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।  দুঃসময়ে জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসে থেকে বিএনপি নেতারা রাজনীতি করেন। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি বঙ্গবাজারের অগ্নিকান্ডের নাশকতা করেছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগুন লাগার পর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তদারকি করেছেন।  বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান।  তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।  আগুন নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিট কাজ করেছে।  তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটসহ সরকারের ছয়টি সংস্থা।  ব্যবসায়ীদের মালামাল রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে প্রাণপণ চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অথচ এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিএনপি।

এদিকে বঙ্গবাজারে অগ্নিকান্ডের সময় পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বংশাল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর অগ্নিনির্বাপণের সময় ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তর ও সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।   এ সময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে পুলিশের ওপরও হামলা করা হয়। অগ্নিকান্ডের দিন পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।  হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ডিসি জাফর হোসেন।