এখতিয়ার বর্হিভূত বদলি শ্রম আইন মানছেন না বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান

সাজেদা হক: শ্রম আদালতের আদেশের তোয়াক্কাই করেন না বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম। বিআরটিসি চেয়ারম্যানের আবেদনের প্রেক্ষিতে শ্রম আদালতের দেয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শ্রম আদালতে বিআরটিসির চেয়ারম্যানের এখতিয়ার বহির্ভূত বদলীর আদেশের বিরুদ্ধে গত ২০ জুলাই একটি মামলা দায়ের করেন বিআরটিসির শ্রমিক কর্মচারি লীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন চৌধুরী। বিএলএ (আই,আর) মামলা নম্বর ৫২৮/২০২৩। মামলায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ সালের ৪২ নং আইনের ১৮৭ ধারার কথা উল্লেখ করে আফতাব উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, এই আইন মোতাবেক কোন ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক অথবা কোষাধ্যক্ষসহ কোন কর্মকর্তাকে তাদের সম্মতি ছাড়া এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলীর এখতিয়ার বিআরটিসির চেয়ারম্যানের নেই। গত ১৬ জুলাই বদলীর আদেশকে শ্রম আইনের ১৮৭ ধারার সুষ্পষ্ট লংঘন এবং শ্রম আইনের মারাত্মক ব্যত্যয় বলে উল্লেখ করে প্রতিকার চান আফতাব উদ্দিন।
শুধু আফতাব উদ্দিনই নয়, সিবিএর সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমকেও এখতিয়ার বহির্ভূত বদলী করেছেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম। আকস্মিক বিআরটিসির শ্রমিক কর্মচারি লীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিকে মতিঝিল থেকে বগুড়ায় এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে মতিঝিল থেকে নোয়াখালীর সোনাপুরে বদলীর আদেশ দেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান।
এর প্রতিকার চেয়ে শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলায় গত ২০ জুলাই বদলী এবং অবমুক্তের আদেশ ¯’গিত, বিআরটিসি চ্যোরম্যানের বিরুদ্ধে কেন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হবে না তা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেন দ্বিতীয় শ্রম আদালতের জেলা ও দায়রা জজের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী।
এই নির্দেশনার কোন উত্তর না দিয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম গত ৭ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন, রিট পিটিশন নাম্বার ৯৪৬০/২০২৩। এই রিটের আদেশে শ্রম আদালতের দায়ের করা মামলা নম্বর ৫২৮/২০২৩) মামলার ‘আদেশ’-এর কারণ ব্যাখ্যাসংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খাইরুজ্জামান এবং বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ। একই সাথে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করার আদেশ দেয়া হয়। অথচ শ্রম আইনের ১৮৬ (১) অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠানে গঠিত কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রিকরণের দরখাস্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে শ্রম পরিচালকের পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে উক্ত ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তার অসুবিধা হয় এইরূপভাবে তার দরখাস্তপূর্ব চাকরির শর্তাবলীর কোন পরিবর্তন করবেন না। শ্রম আইনের ১৮৬ (২) ধারায় বলা আছে, কোন দরখাস্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা এরূপ কোন শ্রমিকের চাকরি উক্ত ধারার অধীন অবসান করতে পারবেন না।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আফতাব উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দেশ বর্তমানকে বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।
এই বিষয়ে সিবিএ সভাপতি মো. আজম খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি দেশ বর্তমানকে জানান, এখতিয়ার বহির্ভূত বদলীর আদেশ বিষয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আগে সাধারণ সম্পাদক বগুড়াতে জয়েন করুক, পরে তাকে আবার বদলী করে নিয়ে আসা যাবে। কেন বদলী করছেন বা করতে হচ্ছে এ প্রশ্নেরও কোন সদোত্তর দেননি তিনি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ খোকন দেশ বর্তমানকে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খজনক। শ্রম আদালতের রায়কে পদদলিত করেও হাইকোর্টে রিট নিয়ে আসাটা সমিচীন হয়েছে বলে আমি মনে করি না। আমার মনে হয়, সিবিএ নেতা আফতাব উদ্দিনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যান এমনটি করেছেন। আমি এই বিষয়টির প্রতি সেতুমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেই সাথে সেতুমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, শ্রমিক লিডার আফতাবের বিষয়টি স্বহৃদয়তার সাথে বিবেচনা করে স্ব-স্থানে পুণরায় বহাল রাখার উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি বিআরটিসি চেয়ারম্যান কেন এমনটি করলেন সে বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা চান। কারণ বিআরটিসির শক্তিই হলো এইসব শ্রমিক। সেই শ্রমিকদের অবদমন করে বিআরটিসির মতো প্রতিষ্ঠান খুব লাভবান হবে বলে আমি মনে করি না।
একই বিষয় নিয়ে শ্রমিক লীগের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর কুতুব আলম মান্নান দেশ বর্তমানকে বলেন, আফতাবের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আফতাব সরাসরি এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আমাদের কাছে কোন আবেদন করেন নি। আবেদন পেলে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবো। এ বিষয়ে বিআরটিসি’র চেয়ারম্যানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।