এই চট্টগ্রামের সাথে আমার অনেক স্মৃতি: শেখ হাসিনা

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণ শুরুর আগে দুরবিন দিয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে কত মানুষ তা দেখে নেন এক পলকে। তারপর মাইকে এসে চট্টগ্রামের ভাষায় বলেন, ‘অনারা ক্যান আছন, বেইয়াগগুন গম আছননি। পেটু পুরেদে, তাই চাইতো আসসি (চট্টগ্রামের মানুষ আপনারা কেমন আছেন। সবাই ভালো আছেন-তো, পেট পুরে তাই আপনাদের দেখতে এলাম)।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই চট্টগ্রামের সাথে আমার অনেক স্মৃতি। করোনার কারণে দীর্ঘদিন সমাবেশ করতে পারিনি। তাই আপনাদের কাছে ছুটে আসলাম। এই স্মৃতিময় চট্টগ্রামে আমরা বারবার ছুটে আসতাম। আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যখন জেল থেকে মুক্তি পেতেন আমাদের চট্টগ্রামে বেড়াতে নিয়ে আসতেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে আসলেই ছুটে যেতাম এম এ আজিজ চাচা, জহুর আহমেদ চাচার বাসায়। এখন তারা নেই। সব স্মৃতি মনে আছে। তাদের অনেকে এখন নেই। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’

রোববার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা, বাস লঞ্চে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। ওরা ধ্বংস করে, আর আমরা সৃষ্টি করি। ওরা ক্ষতি করে আর আমরা মানুষের কল্যাণ করি। বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে এটাই পার্থক্য। খালেদা জিয়া জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল। সেজন্য জনগণ মেনে নেয়নি। তাই তিনি বাধ্য হন পদত্যাগ করতে। সে কথা বিএনপির মনে রাখা উচিত। ওরা ভোটে যেতে চায় অবৈধ উপায়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সাথে মিলে দেশে অগ্নিসন্ত্রাস করে দেশের ক্ষতি করেছে। এটা শুধু তাদের ধারাই সম্ভব। কেননা এ দলটির জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে। যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে তারা এসব হামলা করতে পারে না। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই উন্নয়ন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশ করোনা ভ্যাকসিন ফ্রি দেয়নি। আমরা রিজার্ভের টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনেছি। কেননা জনগণের সেবা করাই আমাদের কাজ। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এত বাজেট দিতে পারত না। তারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। অপারেশন ক্লিন হার্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। আল্লাহর রহমতে আমরা ক্ষমতায় আসতে পেরেছি বলে বিচার করতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের কল্যাণ চাই, দেশের কল্যাণে আমরা কাজ করি। এই বাংলাদেশে বিনা পয়সায় ঘর করে দিচ্ছি। দেশে ৩৫ বিলিয়ন রিজার্ভ আমাদের আছে। এখনো গুজব ছড়ানো হয়েছে। যারা এ কয়দিনে টাকা তুলতে গেছে সবাই টাকা পেয়েছে। আপনার টাকা তুলে বালিশের নিচে রাখবেন, সে টাকা চোরে নিয়ে যেতে পারে। অনেকের টাকা চোরে নিয়ে গেছে, তারা আবার ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি এলেই নিজেরা মানুষের টাকা মেরে খায়। বাংলাদেশে খাদ্যের কোনো অভাব নেই। আমরা খাদ্যের কোনো কষ্ট পেতে দিব না। মাংসসহ সব ধরনের খাদ্যের উৎপাদন বাড়িয়েছি। কিছুদিন আগে ঝড় হয়েছে, আমরা সাইক্লোন শেল্টারসহ সব করে দিয়েছি।

জনসভায় কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রামের জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।