বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ ‘অবাঞ্চিত’ উপাচার্যের, বিচলিত শিক্ষার্থীরা
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
উপাচার্য অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হক’কে অবাঞ্চিত ঘোষণার পর থেকে অনিশ্চয়তার মুখে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। তবে উপাচার্যের দাবি এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অপপ্রচার, আর্থিক ক্ষতি সাধন, ইচ্ছা মতো অধ্যাপক নিয়োগ, অনুগত ও পছন্দের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ১৭৬ জনের যৌথ স্বাক্ষরের ভিত্তিতে উপাচার্য মোজাম্মেল হক’কে ক্যাম্পাস থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন অনিয়মে অভিযুক্ত উপাচার্য মোজাম্মেল হক তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অপ-প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সেক্টরে নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেস্টা করে গেছেন। এ কাজে সহযোগি বেশ কিছু অনুগতদের তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বারবার বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যের স্বীকার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভায় এ সকল অনিয়ম এবং এর কারণ জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানে সরকারি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠান।
প্রফেসর মোজাম্মেল হকের এমন কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর স্থলে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয় কোষাধ্যক্ষ ড. শরীফ আশরাফউজ্জামানকে।
তবে এর পরপরই বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অপপ্রচার শুরু করেন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক। যা দৃষ্টিগোচর হলে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরতরা।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে মোজাম্মেল হক দাবী করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অসাধু চক্র শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে জাল সনদ প্রদান সহ বেশ কিছু অনিয়মের সাথে যুক্ত।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাময়িক অব্যহতি পাওয়া উপাচার্য তাঁর বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জাল সনদে’র বিষয়ে জানান, বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জাল সনদ পাওয়া গেলেও এদের শনাক্তে আইনের আশ্রয় নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যরা যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়াই তার এই দাবীর মূল কারণ।
তবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব প্রফেসর সারওয়ার জাহান জানান, ইতোমধ্যে জাল সনদ কান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে উপাচার্য-ট্রাস্টি বোর্ডের এমন দ্বন্দে বিচলিত শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, এ ঘটনায় বলির পাঁঠা হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দুই পক্ষের দ্বন্দে নিজ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি এভাবে ক্ষুণ হলে শিক্ষাজীবন শেষে মেধার যথার্থ মূল্যায়ন পেতে প্রতিবন্ধকতার আশংকা করছেন তারা।
তবে শিক্ষার্থীদের বিচলিত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যাপক মোজ্জামেল হক বলেন,’ছাত্র-শিক্ষক কি করবে তাদের ব্যাপার, আমার দ্বায়িত্ব যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো আমি তাই করেছি’।
অপর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব প্রফেসর সারওয়ার জাহান বলেন,’সাময়িক অব্যহতি পাওয়া উপাচার্য তাঁর অনিয়ম ঢাকতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’