চট্টগ্রাম নগরীর বায়োজিদ বোস্তামী সড়কের প্রর্বত্তক মোড়ে কল্লোল সুপার মার্কেট বেআইনী ও অবৈধভাবে ভেঙ্গে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কল্লোল সুপার মার্কেট দোকান-মালিক সমবায় সমিতির অর্ধশত ব্যবসায়ী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কল্লোল সুপার মার্কেট দোকান-মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের অর্থ সম্পাদক খোকন মজুমদার।
এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বলেন, একজন সাবেক মেয়রের এমন অন্যায়, অনিয়ম, ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। যে কারণে সুবিচার পেতে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসে স্মারকলিপি দিয়েছেন। মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর ষড়যন্ত্র, আইনকে অমান্য, নানা অপকর্মের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রধানের সাথে দেখা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। তারা এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে খোকন মজুমদার জানান, ‘কল্লোল সুপার মার্কেটের মূল মালিক আতিয়া বানু। তিনি ১৯৮৮ সালে সিডিএ থেকে পাঁচতলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করার অনুমতি পান। তবে তাঁর আর্থিক সংগতি না থাকার কারণে বিভিন্ন জনের কাছে নির্মিতব্য দোকান সমূহের পজেশন সালামীর ভিত্তিতে হস্তান্তর করেন এবং ভিন্ন ভিন্ন তারিখে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। উক্ত চুক্তিপত্র মূলে কল্লোল সুপার মার্কেট দোকান-মালিক সমবায় সমিতির দোকানদাররা একদিকে দোকানসমূহ নিজেই অলিওয়ারিশান স্থলবর্তী পরবর্তীক্রমে ভোগ দখল বা ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার আইনানুগভাবে লাভ করেন।
অপরদিকে এর পজেশন অপর যেকোন তৃতীয় পক্ষের বরাবরে হস্তান্তর করার আইনানুগ অধিকার অর্জন করে। এরই প্রেক্ষিতে আতিয়া বানুর নিরঙ্কুশ স্বত্ব, দখলের আইনত কোন সুযোগ নাই। সম্পত্তির মূল মালিক আতিয়া বানু দোকান মালিকগণের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সালামী গ্রহণ করেন এবং তিনতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন। বিগত এতবছর যাবৎ দোকান মালিকগণের কাছ থেকে লাখ টাকা সালামী আতিয়া বানুসহ ও তার ওয়ারিশরা নানাভাবে ভোগ করেছেন।’
অপরদিকে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ও আইনকে অমান্য করে কল্লোল সুপার মার্কেট বেআইনী ও অবৈধভাবে ভেঙ্গে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন করপোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। বিগত কয়েকবছর ধরে নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন তিনি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি জলাবদ্ধতার উদ্ভট, বানোয়াট অজুহাত দেখিয়ে মার্কেটের পশ্চিম-দক্ষিণ অংশ ভেঙ্গে ফেলার অপচেষ্টা চালায়। অথচ মাহমুদুল ইসলামের কু-উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তৎকালীন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন কর্পোরেশনের বুলডোজারসহ যাবতীয় সরঞ্জাম সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কল্লোল সুপার মার্কেট নামীয় ভবনটি ১৯৮৯-৯০ সালে বহুতল ভবনের ফাউন্ডেশন দিয়ে শুধুমাত্র তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। যার ভীত, ফাউন্ডেশন অত্যন্ত মজবুত ও সুদৃঢ় অবস্থায় এখনও আছে। এটি আরও ৬০-৭০ বছর পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ব্যবহার উপযোগী। এরপরও মাহমুদুল ইসলামের অপচেষ্টার অংশ হিসেবে কু-উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করতে উক্ত ভবনকে জরাজীর্ণ দেখিয়ে মাহামুদুল ইসলাম নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে আইন আদালতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে যেনতেন প্রকারে মার্কেট গুটিয়ে দিয়ে ডেভলাপারের মাধ্যমে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অপচেষ্ঠায় লিপ্ত আছেন।