নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে এ বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়, বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে নারায়ণগঞ্জের বাজারগুলো এখন ইলিশ শূন্য। ফলে কদর বেড়েছে অন্য সব মাছের।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তিন নম্বর ঘাটে অবস্থিত জেলার প্রধান মৎস্য আড়ত ঘুরে দেখা যায়, সকাল হতেই আড়তদার ও পাইকারি বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে এ হাট। ২০০ বছরের প্রাচীন এই মৎস্য আড়তে শতাধিক আড়তদার ও হাজারের বেশি পাইকার রয়েছেন। প্রতিদিন এ হাটে অন্তত তিন কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয় বলে দাবি আড়তদার ও বিক্রেতাদের। নারায়ণগঞ্জের অন্যতম বৃহৎ এ বাজার ঘুরে রুই, পাবদা, পাঙ্গাশ, গলদা চিংড়ি, কই, সরপুঁটি, তেলাপিয়া, পোয়াসহ বিভিন্ন প্রকারের ছোট মাছ বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে সেগুলোর দাম ছিলো বেশ চড়া।

আড়তদাররা জানান, বাজারে নদীর পাঙ্গাস প্রতিকেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, কাতলা আকারভেদে প্রতিকেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ও রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই কেজি প্রতি ৭০ টাকা বেশি দরে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছে কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি পোয়ার দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এক কেজি মাঝারি আকারের গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। যা আগের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি।
মাছের চড়া দামের কারণ জানতে চাইলে রাশেদুল ইসলাম রাজু নামের এক বিক্রেতা বলেন, ইলিশ বিক্রি বন্ধ। এখন অন্য মাছের চাহিদা বাড়ছে। হঠাৎ চাহিদা বাড়ার কারণে বাজার একটু চড়া।
এ প্রসঙ্গে শরিফুল ইসলাম নামের আরেক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে বরফকলগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ করা মাছ পরিবহন করা যাচ্ছে না। মাছের চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম। আর এ কারণেই দামটা একটু বেশি।

৫০০ টাকা দিয়ে এক কেজি পাবদা মাছ কেনেন মিলন মিয়া, যদিও তার কাছে প্রতি কেজির দাম চাওয়া হয়েছিল ৫৫০ টাকা। এই ক্রেতা দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘ইলিশ যখন ছিল তখন ৪০০ টাকায় পাবদা মাছ কিনেছি। ইলিশ ধরা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১০০ টাকা বাড়তি গুনতে হলো।’
অবরোধের এই সময়ে সাগর ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড এবং নৌ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছে।