অবৈধ সমাবেশে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী এবং সাংবাদিক গোলরোখ ইরায়েকে। ইরানের একটি আপিল আদালত তাকে এই সাজা দেয় বলে রবিবার (২ জুন) জানিয়েছে তার সমর্থকরা।
গত বছর তেহরানে হিজাব ইস্যুতে গ্রেফতার হয়েছিলেন কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি। কদিন পর পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের দাবি, পুরনো শারীরিক অসুস্থতায় মারা গেছেন মাহসা। তবে তরুণীর পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন মাহসা।
এই মৃত্যু ঘিরে অভূতপূর্ব এক বিক্ষোভের মুখে পড়ে ইরান সরকার। সেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের একজন এই গোলরোখ ইরায়ে। গত সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভের শুরুর দিকেই গ্রেফতার হয়েছিলেন ইরায়ে। সেই থেকে ইরানের জেলে বন্দি আছেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাজা নিয়ে আপিল আদালতের শুনানিতে অংশ নেননি ইরায়ে। তার ভাষ্য, এই আদালত অবৈধ।
সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত তার নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট অনুসারে, গোলরোখ ইরায়ে ২৮০ দিন এভিন কারাগারে ছিলেন। তেহরান আদালত তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। এপ্রিলে একটি আদালত ইরায়েকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
ইরায়ে মানবাধিকারকর্মী আরাশ সাদেঘির স্ত্রী। আরাশও প্রতিবাদ আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন।
বিক্ষোভের তীব্রতা কমে যাওয়ায় প্রতিবাদ আন্দোলনের বিরুদ্ধে ইরানের ক্র্যাকডাউনের সময় গ্রেফতার হওয়া কিছু কর্মীকে গত কয়েক মাসে মুক্তি দেওয়া হয়। সে সময় ছাড়া পেয়েছিলেন আরাশ।
তবে পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্গেস মোহাম্মদী, শ্রম অধিকারকর্মী সেপিদেহ ঘোলিয়ান এবং পরিবেশবাদী প্রচারক নিলুফার বায়ানি এবং সেপিদেহ কাশানিসহ বিশিষ্ট নারী প্রচারকরা এখনও কারাগারে বন্দি আছেন।
মাহসা আমিনির মামলাটি প্রকাশের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছিলেন সাংবাদিক নিলুফার হামেদি এবং এলাহে মোহাম্মদী। দুজনেই সেপ্টেম্বর থেকে বন্দী আছেন। জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে তেহরানে তাদের বিচার চলছে।
সূত্র: আরব নিউজ