বাংলাদেশ ‘এ’এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের মধ্যকার তিনটি চারদিনের অনানুষ্ঠানিক টেস্টের সিরিজ চলছে। যার প্রথমটি জুড়েই ছিল বৃষ্টির বাধা। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে চার শতাধিক রান তোলায় শুরুতে রানচাপায় পড়ে বাংলাদেশ। যার জবাবে ২৬০ রানের ঘর পেরুতেই অলআউট হয়ে যায় আফিফ হোসেনের দল। ফলে ফলোঅনে পড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। শেষদিনে ছিল ইনিংস হারের শঙ্কা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচটি দারুণভাবে ড্র করেছে তারা।
ফলো-অনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান করলে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হয়ে যায়। শেষ ম্যাচে সাদমান ইসলামের হাফ সেঞ্চুরিও দুই ইনিংসেই স্বাগতিকদের হয়ে জাকের আলী ব্যাটে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫ রান নিয়ে গতকাল শুক্রবার ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। এদিন শুরুতেই ফিরে যান জাকির হাসান। ৬ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে না পারা এই ব্যাটার কেলভিন জর্ডানের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। এরপর আগের ইনিংসে সেঞ্চুরির কাছে যাওয়া সাইফ হাসানও ফেরেন দ্রুত।
১ চারে ১৪ বলে ৬ রান করে তিনিও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। বড় ইনিংস খেলতে পারেননি আফিফ হোসেন ও মাহমুদুল হাসান জয়ও। ৪২ বলে ২০ রান করে জয় ও ৮ বলে ৯ রান করে আউট হন আফিফ।
বাংলাদেশের হয়ে লড়েন উদ্বোধনী ব্যাটার সাদমান ইসলাম। আউট হওয়ার আগে ৯ চারে ৯০ বলে ৬৪ রান করেন তিনি। এছাড়া শেষদিকে ৬৭ বলে ৩৬ রান করে জাকের আলি অনিক দলের বিপর্যয় এড়ান। ৪১ বলে অপরাজিত ২০ রান আসে রিশাদ হোসেনের ব্যাটেও।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজদের তিন ব্যাটারই ৮০-এর ওপরে ব্যক্তিগত ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান। তেজনারায়ণ চন্দরপল ৮৩, কার্ক ম্যাকেঞ্জি ৮৬ এবং অ্যালিক আথানাজে করেন ৮৫ রান। এছাড়া উইন্ডিজ ‘এ’ দলের অধিনায়কের ৭৭ রানের ইনিংসে তারা ৭ উইকেটে ৪২৭ রানের বড় সংগ্রহ পেয়ে যায়। এরপরই তারা ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশের হয়ে মুশফিক হাসান ৩টি, নাঈম হাসান ২টি এবং রিপন মন্ডল ও সাইফ হাসান একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৬৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেন ওয়ানডাউনে নামা সাইফ হাসান। এই রান করতে তিনি মাত্র ৭১ বল খেলেছেন। এছাড়া জাকের আলী ৬৫ এবং অধিনায়ক আফিফ করেন ৪৫ রান। উইন্ডিজদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন জ্যায়ার ম্যাকঅ্যালিস্টার।