আগের দুইবার ফাইনালে উঠেও শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। তবে এবার আর কোনো আক্ষেপের গল্প নয়। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালিকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে।
রবিবার (১১ জুন) রাতে এই ম্যাচের মধ্যদিয়ে পর্দা নামল যুব বিশ্বকাপের।
আর্জেন্টিনার এস্তাদিও সিউদাদ দে লা প্লাতায় ডিয়েগো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে ৪০ হাজার দর্শক ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেছে। সবাই উল্লাস করছেন উরুগুয়ের হয়ে। মাঠে হাজির ছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও।
১৯৯৭, ২০১৩ আসরেও ফাইনাল খেলেছিল উরুগুয়ে। কিন্তু দুবারই ব্যর্থ হয়েছে তারা। অথচ ২০ মে যখন টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ায় তখনও কেউ ভাবতে পারেনি ছোটদের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ফেভারিটের বাইরে কেউ হবে। ফলে ফেভারিটের তালিকায় থাকা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ক্লাবগুলো থেকে খেলোয়াড় ছাড়িয়ে নিতে যতটা বাধার মুখে পড়েছে। ততটা বাধার মুখে পড়েনি উরুগুয়ে-ইতালি। ৮৬ মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছেন লুসিয়ানো রদ্রিগেজ।
ইতালির পোস্টে ১৫টি শট নিয়েছে উরুগুয়ের ফুটবলাররা। যেখানে লক্ষ্যে ছিল চারটি। অপরদিকে পুরো ম্যাচে ইতালির ফুটবলাররা মাত্র তিন শট নিতে পেরেছে প্রতিপক্ষের পোস্টে। যার একটিও অন টার্গেট ছিল না।
ফাইনালে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও জাল খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় দুই দল। এক সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। তবে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৪ মিনিট আগে লুসিয়ানো রদ্রিগেজ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ১-০ তে জয় নিয়েই এবারের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে।
এর আগে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলবধ করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়া ইসরায়েলকে ১-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে আসে উরুগুয়ে। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা অ্যান্ডারসন দুয়ার্তেও উরুগুয়ের খেলোয়াড়। টুর্নামেন্টের টপ স্কোরার ইতালির কাসাদেয়ি। সাত গোল করলেও ফাইনালে ছিলেন নিষ্প্রভ।
জয়ের নায়ক রদ্রিগেজ অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। শুধু বলেছেন, ‘আমরা এটার যোগ্য।’ ইতালির কোচ নুনজিয়াতা উরুগুয়েকে কৃতিত্ব দিলেও মাঠের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন মাঠ তার শিষ্যদের খেলায় প্রভাব ফেলেছে।
এর আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে অভিষেক টুর্নামেন্ট খেলতে আসা ইসরায়েল।