আ.লীগের ইশতেহারে মূল স্লোগান ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল স্লোগান হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও নির্বাচনী ইশতেহার কমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুর রাজ্জাক। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের ইশতেহার কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আমাদের স্লোগান ছিল ‘গ্রাম হবে শহর’।
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সব নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ জাতির আশা-আকাঙ্খা পূরণের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতি প্রণয়ন করে থাকে। অতীতে আমরা কি করেছি, কি আমাদের অর্জন, সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করি। সে আলোকে আমরা সব নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করি। এবারও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্য ইশতেহার কমিটি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারি এবং পরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে আমাদের অর্থনীতির ওপর বিরাট আঘাত আসে। সেই আঘাতের কারণে আমাদের প্রবৃদ্ধির যেই লক্ষ্যমাত্রা ছিল, সেটি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। আমাদের অর্থনীতিও টানাপোড়েনের মধ্যে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও কিছু পণ্যের অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে। সেগুলো মোকাবিলা করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এবারও ৬ ভাগের মতো প্রবৃদ্ধি আমরা অর্জন করেছি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা আট ভাগ, সেটি সম্ভব হয়নি। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে উঠতে আমাদের আরও কিছু সময় লাগবে।
তিনি বলেন, কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম ও কোনো হুমকি এই নির্বাচন থেকে জাতিকে সরাতে পারবে না। অতীতেও তারা (বিএনপি-জামায়াত) নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছে। আগুন সন্ত্রাস করেছে, গাড়ি-ঘোড়া পুড়িয়েছে, রেল লাইন তুলে ফেলেছে, বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, শত শত মানুষকে তারা অগ্নিদগ্ধ করেছে।
আবদুর রাজ্জাক বলেন, এটির আর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা খুবই সচেতন। বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল এবং সক্ষম-দক্ষ। তারা এটি মোকাবিলা করবে। কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। দেশকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করতে দেয়া হবে না।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দল হিসেবে আমরা মনে করি, নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচন হবে। যত হুমকি আসুক, যতই ষড়যন্ত্র হোক, আওয়ামী লীগ এ দেশের জনগণকে নিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবে।
তিনি বলেন, এসডিজি গোলকে সামনে রেখে আমরা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে রূপান্তর করতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করব। আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে আমাদের মোট জিডিপি, জিডিপি গ্রোথ কত হবে, দারিদ্র্য কতটুকু কমিয়ে নিয়ে আসব, মুদ্রাস্ফীতি কততে নিয়ে আসব এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক একটা চাঙ্গা অর্থনীতি; অত্যন্ত গতিশীল এবং সম্প্রসারণমূলক একটি অর্থনীতি নিয়ে আমাদের আগামী নির্বাচনী ইশতেহার রচিত হবে।
এসময় ইশতেহার কমিটির সদস্য সচিব এবং আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সাজ্জাদুল হাসান এমপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।