আমরা একা নই, জাতীয়-আন্তর্জাতিক শক্তি আছে -মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব সির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কাল বলে দিয়েছেন যে যা বলুক ভাই আমার সোনার হরিণ চাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দেশের জনগণ যা-ই বলুক না কেন ওনার (প্রধানমন্ত্রী) সোনার হরিণ চাই। জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন। আবারো ক্ষমতায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা আর হতে দেয়া হবে না।’

গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলের সেমিনার কক্ষে ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশীয়-আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও এই মুহুর্তে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার এবং ‘নো কমেন্টস’ নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নো কমেন্টস’ বইটি সম্পাদনা করেছেন চিত্রসাংবাদিক বাবুল তালুকদার। বইটি সংকলনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আবারও আগের মতো নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু তা আর হতে দেয়া হবে না। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাস্তায় নেমেছি। আমাদের লড়াই চলছে। সফল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। সকল গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নিয়ে আমরা গণতন্ত্র উদ্ধারের লড়াইয়ে নেমেছি।
তিনি বলেন, অনেকেই আছেন যারা হতাশায় ভোগেন। তাদের বলবো- মাঠে থাকলে হতাশ হবেন না। আমাদের নেতারা যারা মাঠে থাকেন তাদের মধ্যে কোনো হতাশা দেখি না। যারা যুগপৎ আন্দোলন করছেন তাদের মধ্যে কোনো হতাশা নেই। আমরা বিশ্বাস করি এই সংগ্রামে আমরা বিজয়ী হবই। কারণ আমরা সত্যের পক্ষে ও সঠিক পথে আছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই লড়াইয়ে ইতোমধ্যে আমাদের ২২ নেতা-কর্মীর প্রাণ গেছে। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন, ৪৫ লাখ নেতা-কর্মীর নামে মামলা দেয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। আমাদের নেত্রী কখনও নতি স্বীকার করেননি। আমরাও করব না।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচন তো আমরাও চাই। তবে সেটা জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। আওয়ামী লীগ চায় আবারো বিনাভোটে নির্বাচিত হবে ২০১৮ সালের মত। ২৪’ সালে আর সেই নির্বাচন করতে পারবেন না। এবার আর আমরা একা নই। আমাদের সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি আছে। পশ্চিমাদের কমিটমেন্ট আছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়। তারা কমিটমেন্ট রক্ষায় পিছপা হয় না। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বলেছেন ফয়সালা হবে রাজপথে। আমরা রাজপথেই ফয়সালা করব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ২০১৮ সালে যে দিনের ভোট রাতে করেছিল তা শুরুতে সবাই বুঝতে পারেনি। বিদেশি গণমাধ্যমগুলো বলেছে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছে মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোতে ৫ শতাংশ ভোট পড়েনি। নির্বাচন কমিশন বলে ১০/১২ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগ বলে তাদের সবাই পছন্দ করে। তাহলে মানুষ কেন ভোট দিতে গেল না। এতেই প্রমাণ হয় নির্বাচনের ওপর সম্পূর্ণ রূপে আস্থা হারিয়েছে মানুষ। বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নেই।
স্থায়ী কমিটির মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ বলে বিএনপি নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। আমরা একটা চেষ্টা করছি, এটা সত্য। সেটা হচ্ছে- এই সরকার যেন অসদুপায়ে আর কোন নির্বাচন করতে না পারে সেটা বানচাল করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী গুরুতর অসুস্থ, আওয়ামী লীগ বলে আমরা নাটক করছি। বিএনপি কখনই নাটক করে না, যা করে বাস্তবে করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ও আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দ ‘নো-কমেন্টস’ নামের বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। মূলত, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে উঠে আসা সংবাদের বিশ্লেষণ করে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।