মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ আগস্ট)থেকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করবেন।
সোমবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা এ ঘোষণা দেন। গত ১১ জুলাই থেকে শিক্ষকরা এ আন্দোলন করছেন।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসা বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমদ বলেছেন, কেবল প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলেই তারা ঘরে ফিরে যাবেন।
তিনি বলেন“আমরা ৫ মিনিটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাই। এর কারণ হচ্ছে, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে চাই।
“জাতীয়করণ একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। দুই বছর বা পাঁচ বছরে এটি করা একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু তারপরও এটা শুরু হোক।”
বর্তমান বাজারে শিক্ষকদের দুরবস্থা তুলে ধরে কাওছার বলেন, “আমরা এখন মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাই।
“এই জায়গাটায় তো একটা সুদৃষ্টি দেয়া যায়। এই জায়গাটায় প্রধানমন্ত্রীর মেসেজটা কী- সেটা আমরা জানতে চাই। ওনাকে এখনইঘোষণা দিতেই হবে- এমনটা না। কারণ আমরা বুঝি, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আর মাত্র দুই মাস বাকি।”
শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণ এবং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করতে হবে। এ আন্দোলন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে দুই দফা পুলিশি কঠোরতার মুখে পড়েছেন শিক্ষকরা।
বিশেষ করে আন্দোলনের সপ্তম দিনে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে। ওই দিন শতাধিক লোক আহত হন। এতে আহত একজন মারা গেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী স্বঘোষিত ও সদ্য গজিয়ে ওঠা কয়েকটি সংগঠনের শিক্ষক নেতাসহ একটি বৈঠক করেছেন।
তাদের বেশিরভাগ সরকারি আশীর্বাদপুষ্ট। বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছেন তারা।
এছাড়া বৈঠকে আগে ও পরে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন। গ্রীষ্মের ছুটি বাতিল করেও পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছেন তিনি; কিন্তু শিক্ষকরা এখন পয়েন্ট অব নো রিটার্নে চলে গেছেন। মর্মাহত শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে আন্দোলনে আছেন।
দিন দিন অংশগ্রহণ বাড়ছে। এখন তারা আজ (৩১ জুলাই) পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত না পেলে আগামীকাল (১ আগস্ট) আমরণ অনশনে যাবেন।