আবারো স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

কুয়েতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে হৃদয় ভাঙলো বাংলাদেশের।  থামলো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এবারের আসরে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা।  ১৪ বছর পর সেমিফাইনালে উঠে স্বপ্ন দেখছিল ১৮ বছর পর ফাইনালে ওঠার।  কিন্তু গোল মিসের মহড়া আর ক্লান্তির কাছে হার মানলো বাংলাদেশ।  অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে (১০৫+২ মি.) গোল হজম করে বাংলাদেশ।

এরপর অবশ্য গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলছিল হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা।  দুটি সুযোগও তৈরি করেছিল।  কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি।  তাতে দিন শেষে ফাইনালে ওঠাও হয়নি জামাল ভূঁইয়াদের।  অবশ্য হারলেও হৃদয় জিতেছে তারা।  র‌্যাংকিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে জামাল-তপুরা যেভাবে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছেন সেটা প্রশংসার দাবি রাখে।

ম্যাচের শুরুতেই পেয়ে যায় গোলের সুযোগ পায় বাংলাদেশ।  দ্বিতীয় মিনিটেই ডানদিক থেকে রাকিব হোসেনের বাড়িয়ে দেয়া বল ডি বক্সে পেয়ে যান মোরসালিন।  তার সামনে কেবল অসহায় কুয়েতের গোলরক্ষক আব্দুলরহমান।  তাকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি আগের দুই ম্যাচের তারকা।  তিনি সরাসরি মেরে দেন গোলরক্ষের পায়ে মেরে অব্যর্থ সুযোগ হাতছাড়া করেন।

সপ্তম মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল কুয়েতও।  এ সময় জটলার মধ্য থেকে নেওয়া শট গোললাইনের সামনে থেকে ক্লিয়ার করেন বাংলাদেশের ঈসা ফয়সাল।  ৩১ মিনিটের মাথায় বাংলাদেশ আরও একটি সুযোগ তৈরি করেছিল।  এ সময় বামদিকে রাকিবকে ডি বক্সের ভেতর বল দেন মোরসালিন।  কিন্তু কুয়েতের ডিফেন্ডার রাকিবকে শট নেওয়ার সুযোগ দেননি।

বিরতির পর পরই ডি বক্সের বাইরে থেকে রাকিবের আচমকা শট ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে উড়ে যায়।  ৬১ মিনিটের মাথায় জিরো ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল থেকে রাকিবের শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলটি ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যায়।  ৮৭ মিনিটে ইব্রাহিমের ক্রসে রাকিব মাথা ছোয়াতে ব্যর্থ হলে গোল পায়নি বাংলাদেশ।

তাতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও লড়াই থামেনি ক্লান্ত বাংলাদেশ।  কিন্তু কুয়েতের খেলোয়াড়দের আক্রমণের মুখে সেরাটা দিতে পারছিল না।  সেই সুযোগে ১০৫+২ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন কুয়েতের আল ব্লোউসি।  তার গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।  প্রথমবার খেলতে এসেই ফাইনালে তুলে তার দলকে।