পদযাত্রা ও শান্তি সমাবেশে আবার মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি

শনিবার আবারও ঢাকা সহ সারাদেশের মহানগরে মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।  এ দিন বিএনপির পদযাত্রা ও আওয়ামী লীগ করবে বরাবরের মতো শান্তি সমাবেশ। ‘বিনা  যুদ্ধে নাহি দেবো সুচক্রবেদিনী’।  আওয়ামী লীগ বিনা চ্যলেঞ্জে বিএনপিকে মাঠ ছেড়ে দিতে রাজি না।  দুইদল গত ডিসেম্মর থেকেই মাঠে সমান তালে হাঁটা শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগের বর্শিয়ান একজন নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগের জন্মই আন্দোলন থেকে।  আন্দোলনের রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা।  সেই আলোকে বিরোধী দলকে একা মাঠ ছেড়ে দিতে নারাজ দলটি। তবে আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল আরেকজন নেতা বক্তব্য ‘  আওয়ামী লীগ মারামা্িও করার জন্য মাঠে নামে না।  বিএনপি যাতে আন্দোলনের নামে মানুষের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে তার চেক দেয়া।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির সাথে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবির ও নানা জঙ্গী গোষ্ঠীর কানেকশান রয়েছে। তারা আন্দোলনের মাঠে থেকে যে কোন সময় যে কোন অঘটন ঘটাতে পারে। আওয়ামীলীগ থাকবে মাঠে সর্তক।

বিএনপির  শীর্ষ নেতাদের একটায় কথা,মানুষ এ সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।  আমরা শান্তি পূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে সরকারকে সেই কথাটায় বুঝিয়ে দিতে চায়। জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করুন এবং অবাধ নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন দিন।  অন্যথায় জনগন টেনে হেচড়ে সরকারকে ক্ষমতার মসনত থেকে নামিয়ে দেবে।  সরকারের যত তাড়াতাড়ি শুভ বুদ্ধির উদয় হবে ততই মঙ্গল।

বিএনপির ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় আগামী শনিবার পদযাত্রার দিনে শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয় গত বুধবার।  তবে শান্তি সমাবেশের সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি।  থানা কমিটিগুলো সুবিধামতো সময়ে কর্মসূচি করতে পারবে।  এদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগও অনুরুপ কর্মসূচি পালন করবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সংসদীয় আসনভিত্তিক শান্তি সমাবেশ করবে।  সংসদীয় আসনের মধ্যে যেসব থানা অন্তর্ভুক্ত, দলের সেসব থানা কমিটিগুলো একত্রে সমাবেশ আয়োজন করবে।  প্রতিটি শান্তি সমাবেশেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।  অন্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারাও এসব সমাবেশে যোগ দেবেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা-৪ আসনের শ্যামপুর ও কদমতলী থানার শান্তি সমাবেশে থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। ঢাকা-৫ আসনভুক্ত যাত্রাবাড়ী ও ডেমরার শান্তি সমাবেশে থাকবেন বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

একইভাবে ঢাকা-৬ আসনের ওয়ারি, গেন্ডারিয়া ও সূত্রাপুর থানার শান্তি সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এমপি, ঢাকা-৭ আসনের লালবাগ, চকবাজার, কোতোয়ালি ও বংশালে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন; ঢাকা-৮ আসনের মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও শাহজাহানপুর থানায় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ সাঈদ খোকন; ঢাকা-৯ আসনের মুগদা, সবুজবাগ ও খিলগাঁও থানায় আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু এবং ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি থানায় দলের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস এমপি উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে সারাদেশের প্রতিটি মহানগরের থানায় থানায় কাল শনিবার পদযাত্রা করবে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।  সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ কর্মস‚চি করবেন দলগুলোর নেতাকর্মীরা।  তবে বিএনপির হাইকমান্ড দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এ পদযাত্রাকে বিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।  ঢাকা মহানগরে কর্মসূচি সফলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে প্রতিটি থানায় ওইদিন দুপুর ২টা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি বিকেল ৩টায় পদযাত্রা শুরু করবে। কর্মসূচি সফলে প্রতিদিনই ঘরোয়া বৈঠক, প্রস্তুতি সভা, মতবিনিময়, প্রচার-প্রচারণা করছেন নেতারা।  শান্তিপ‚র্ণ পদযাত্রা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস।  এক বেলা ডাল-ভাত খেতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। অথচ জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা শাসকরা ভ‚রিভোজে ব্যস্ত।  জনগণের ন্যায্য দাবি ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে সরকারকে বাধ্য করতে আন্দোলন চলছে।  এ আন্দোলনে সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ সমর্থন জানিয়ে অংশ নিচ্ছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর এবারই প্রথম এ ধরনের কর্মসূচি এসেছে।  ফলে থানা কমিটির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও দক্ষতা প্রমাণের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা। তাঁরা আগামীতে সরকার পতনের এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এ সাংগঠনিক ইউনিটের শক্তিমত্তা পরীক্ষা করতে চাচ্ছেন। কর্মসূচি পালনে সংঘাত এড়াতে নেতাকর্মীকে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকমান্ড।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক জানান, কর্মসূচি পালনে তাঁদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।  প্রতিটি থানা কমিটির নেতাকর্মীরা চলমান আন্দোলনে নিজেকে উজাড় করে কর্মসূচি পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।  ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে নেতাকর্মীরা ছাড়াও সাধারণ জনগণ এদিন রাস্তায় নেমে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগরের উত্তরে ২৬টি, দক্ষিণে ২৪ থানা ছাড়াও অন্যান্য মহানগরে কর্মসূচি সফলে নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।  এর মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রাম মহানগরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কুমিল্লা মহানগরে ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নারায়ণগঞ্জ মহানগরে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সিলেট মহানগরে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, খুলনা মহানগরে শামজ্জামান দুদু, ফরিদপুর মহানগরে আহমদ আযম খান, ঢাকা মহানগর উত্তরে আমান উল্লাহ আমান, রাজশাহী মহানগরে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, গাজীপুর মহানগরে যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল মহানগরে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, রংপুর মহানগরে সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু এবং ময়মনসিংহ মহানগরে দলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছে।

অন্যান্য জোট ও দল

সাতদলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীরাও শনিবার দেশের সব মেট্রোপলিটন শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পদযাত্রা করবেন।  গণতন্ত্র মঞ্চ ঘোষিত ১৪ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা।  কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওইদিন ঢাকায় সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মগবাজার পর্যন্ত পদযাত্রা হবে।  এ ছাড়া ১২ দলীয় জোট, এলডিপি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা একই কর্মসূচি পালন করবে।