আজ বিশ্ব নারী দিবস

তোমায় ছাড়া সৃষ্টিজগত হতো না। নারী তুমি কন্যা, জায়া, জননী, তুমি প্রেয়সী, অনুপ্রেরণাদাত্রী, সাহসিকা, তুমি সহকর্মী, তুমি সহযোদ্ধা। ভালোবাসায় পূর্ণ করেছো পরিবার, সংসার ও কর্মক্ষেত্র। দিয়েছো শক্তি ও সহানুভূতি, শিখিয়েছো ভালোবাসা, সহনশীলতা। হয়েছো পথপ্রদর্শক, মমতায় মানবিক, দয়া ও করুণার স্রোতধারা। আবার প্রতিবাদে হয়েছো ইস্পাত সম কঠিন। পরিবার, সংসার, সমাজ এবং কর্মক্ষেত্র সব কিছুকে গুছিয়ে রাখার অপর নাম নারী। দিনের আলো যার কেটেছে স্বপ্ন তৈরিতে, রাতের ঘুম কেটেছে শিশুকে ঘুম পাড়ানোতে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে যার সারাজীবন কেটেছে ঘর সাজাতে, স্বমহিমায় বিশ্বকে যে নারী করেছে আলোকিত। সাহস, উচ্চাশা, আকাক্সক্ষার কেন্দ্রে তুমি নারী। ভালোবাসার আঁধার তুমি। যাকে ছাড়া সৃষ্টি জগত হয় না। যে নারী সমতা ও অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে আসছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। সে নারীকে ভালোবাসা ও সম্মান জানানোর দিন আজ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারী দিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য হয় এক এক প্রকার। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদ্যাপনের হয় মুখ্য বিষয়, তো আবার কোথাও নারীদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাটি গুরুত্ব পায় বেশি। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে সারাবিশ্বে নারীকে সম্মান জানাতে নারী দিবস উদযাপনই মূল লক্ষ্য। বেগুনী রঙে নারী দিবস বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যখন ব্রিটেনের নারীরা ভোটাধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছিলেন, তখন তারা বেগুনি রঙকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। এই রঙকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। বেগুনি রং নির্দেশ করে সুবিচার ও মর্যাদা। বেগুনী রঙ আভিজাত্য, সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির প্রতীক। বেগুনী রঙ দৃঢ়ভাবে নারীর সমতার সাথে সংশ্লিষ্ট। নারীর অধিকার আদায়ের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম শেষে বেগুনি রঙ এখন নারীবাদীদের প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্যান্টন ২০১৮ সালে বেগুনি রঙকে নারী দিবসের রঙ হিসেবে ঘোষণা দেয়। তাই বর্তমানে বেগুনি রঙটি নারী দিবসের প্রতীক। ইতিহাসে নারী দিবস ১৯০৮ সালে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা, বেতন বৃদ্ধি এবং ভোটাধিকারের দাবিতে প্রায় ১৫,০০০ নারী নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছিল। মূলত এই আন্দোলনের মাঝেই লুকায়িত ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে নারী দিবস পালনের বীজ। এই আন্দোলনের এক বছর পর আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি সর্বপ্রথম জাতীয় নারী দিবস ঘোষণা করে। জাতীয় পর্যায় থেকে দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পরিণত করার প্রথম উদ্যোগটি নিয়েছিলেন কমিউনিস্ট ও নারী অধিকার কর্মী ক্লারা জেটকিন। ১৯১০ সালে তিনি কোপেনহেগেনে কর্মজীবী নারীদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ ধারণার প্রস্তাব দেন। সেই সম্মেলনে উপস্থিত ১৭ দেশের ১০০ জন নারীর সকলেই তার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেন। এরপরের বছর অর্থাৎ ১৯১১ সালে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ২০১১ সালে পালিত হয় দিনটির শতবর্ষ। প্রতি বছর একটু একটু করে এগিয়ে ২০২৬ সালে আজ আমরা পালন করছি ১১৫ তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস।