আজ থেকে রুপিতে লেনদেন শুরু

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আজ থেকে রুপিতে লেনদেন শুরু হবে। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টায় রাজধানীর লা মেরিডিয়েন হোটেলে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ভারতীয় হাইকমিশন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভারতীয় মুদ্রায় বাণিজ্যিক লেনদেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে সোনালী, ইস্টার্ন ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় দুটি ব্যাংকের সঙ্গে রুপিতে লেনদেন হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী এবং কয়েকজন ব্যবসায়ী উপস্থিত থাকবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সরাসরি রুপি ব্যবহার করে আমদানি-রফতানির মূল্য বিনিময় জনপ্রিয় হয়ে উঠলে দুই দেশের লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের ওপর চাপ কমবে। তাছাড়া আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের দুবার মুদ্রা বিনিময় করার খরচ কমবে। এতে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সময়ও বাঁচবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ এবং প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয় দেশে। এদিকে ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে দেশে টাকা-রুপিভিত্তিক ডেবিট কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৮ জুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি উপস্থাপনকালে গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার এ ঘোষণা দেন। এ কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা টাকা দিয়ে যেমন দেশের মধ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন, তেমনি একই কার্ড দিয়ে ভারতে গিয়ে রুপিতে কেনাকাটা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রুপিতে লেনদেন কার্যক্রম চালুর পর ব্যাংকগুলো এ মুদ্রায় এলসি করতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাতে অনুমতি দেবে। বাংলাদেশের কোনো ব্যবসায়ী আমদানি বা রফতানির ক্ষেত্রে রুপিতে এলসি খুলতে চাইলেও তা করতে পারবেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফজাল করিম বলেন, ‘রুপিতে লেনদেন চালুর বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছি। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং আইসিআইসিআই ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে এবং এই দুই ব্যাংকের সঙ্গে সুইফট কমিউনিকেশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এখন কোন ব্যবসায়ী চাইলে রুপিতে এলসি খুলতে পারবেন। ’

তিনি আরও বলেন, ভারতে বছরে ২ বিলিয়ন ডলারের মতো রপ্তানি করে বাংলাদেশ। দেশটি থেকে আমদানি হয় ১৪ বিলিয়ন ডলারের মতো। এখন এ দুই বিলিয়ন ডলারও যদি রুপিতে নিষ্পত্তি করা যায়, তাতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে। এ ছাড়া আগামীতে রপ্তানি আরও বাড়াতে পারলে তখন সুযোগ বাড়বে।

এমএইচএফ