শারমিন আক্তার (২২) পরিবারকে প্রায়ই বলতো, সে লেখাপড়া শেষ করে আইনজীবী হবে। আইনজীবী হয়ে গরীব, অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিতদের আইনি সহায়তা দেবে। গ্রাজুয়েশন শেষ করে সেই লক্ষ্য পূরণে প্রথম ধাপে ভর্তি হয় চট্টগ্রাম আইন কলেজে। এলএলবি ১ম বর্ষে (২২-২৩) অধ্যায়নরত শারমিনের শ্রেণি রোল ছিল ৬৩৭ নম্বর। বাবার সংসারে তিন বোন এক ভাইয়ের মাঝে বোনদের মধ্যে ছোট শারমিন ১ম বর্ষ শেষ করার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় চলে যান না ফেরার দেশে। আকস্মিক মৃত্যুতে শারমিনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এদিকে তার বিদ্যাপিঠ চট্টগ্রাম আইন কলেজের সহপাঠী শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকদের মাঝেও বইছে শোকের বন্যা। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মেহেদী হাসান আরিফ (২৮)। দুই নিহতের পরিবারের কান্নার রোল নগরীর আকবরশাহ থানার বিশ্বকলোনী এলাকার আশ-পাশ ভারী হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে পাহাড়তলী থানার হক্কানী পেট্রোল পাম্পের পাশে ছোট ব্রিজের ওপর বিপরীতমুখী ট্রাকের ধাক্কায় এই দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, নগরীর আকবরশাহ থানার বিশ্বকলোনী এলাকার ইয়াসিন বাবুলের মেয়ে শারমিন আক্তার ও একই এলাকার জামাল উল্লাহর ছেলে এক কন্যা সন্তানের জনক মেহেদী হাসান আরিফ।
নিহত শারমিনের ভাই জয় মামুন দেশ বর্তমানকে বলেন, আরিফ ভাই এবং আমার আপু বন্ধু ছিলেন। তারা স্কুটিতে করে আকবর শাহ থেকে কোর্ট বিল্ডিং যাচ্ছিলেন। এসময় একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। আমাদের পরিবারের এক স্বপ্ন সারথী হারিয়েছি বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের ছোট ভাই মামুন। তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টা) থানা থেকে এজাহার না পাওয়ায় লাশ বুঝে নিতে পারিনি।
চট্টগ্রাম আইন কলেজের ২য় (ফাইনাল) বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াকুব আল আহম্মদী, উত্তম দে, শেখ শোয়েব চৌধুরী, ফারজানা আহমেদ চৌ, রাশিদুল হাসান, জানে আলমসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী শারমিনের মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, শারমিন আমাদের কলেজের ১ম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। খুবই নম্্র-ভদ্র ও মিশুক প্রকৃতির ছিলেন। আমাদের মাঝ থেকে সে আজ হারিয়ে গিয়েছেন। আমরা শোকাহত।
এদিকে শারমিনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন চট্টগ্রাম আইন কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও উপাধাক্ষ্য বদরুল হুদা মামুনসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হারাল আমাদের কলেজ, তার শূণ্যতা পূরণ হওয়ার নয়। শোক সমপ্ত পরিবারে প্রতি সমবেদনা রইল।
স্থানীয়রা জানান, নিহত দুজনই একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। চট্টগ্রাম আইন কলেজের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন মেহেদী। মোটরসাইকেলটি শারমিন আক্তারের। ধারণা করা হচ্ছে, শারমিন আক্তারই গাড়িটি চালিয়েছিলেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, পাহাড়তলী থানা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ট্রাক চালককে আটক করতে চেষ্টা চলমান আছে বলে জানান পাহাড়তলি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কেপায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা ঘাতক ট্রাকটি খুঁজতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করেছি। আশা করছি শীঘ্রই চালক ও ট্রাকটি আইনের আওতায় আনকে পারব।