আইটি বিজনেস হাব হচ্ছে চট্টগ্রাম, বাড়বে কর্মসংস্থান
মার্চে যাত্রা শুরু শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের শেষ হলো প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ
দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্মের জন্য আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থানের নবদিগন্ত উন্মোচন করবে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ইনকিউবেশনটির ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ। ৩ শতাংশ কাজ শেষ হলে ধরা দেবে পরিপূর্ণরূপে। যেখানে লিফট ও ইলেকট্রিক সংযোগ লাগলেই কাজ শেষ। সবকিছুু ঠিক থাকলে মার্চ মাসেই পুরোদমে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ইনকিউবেশন সেন্টারটি। এর মাধ্যমে প্রতিবছর আইটি বিষয়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ পাবেন চট্টগ্রামের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম গড়ে উঠবে আইটি বিজনেস হাব হিসেবে। ইতোমধ্যে ২০১৮ সাল থেকেই অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে বের হয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে যেন ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারেন সে লক্ষ্যে একই জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে একটি হাইটেক পার্ক।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর চান্দগাঁওয়ের সিএন্ডবি এলাকায় ৬ তলা বিশিষ্ট প্রায় ৬ হাজার বর্গফুটের এই আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সিটি কর্পোরেশনের ১ দশমিক ৭১ একর জায়গায় নির্মাণ করা ইনকিউবেশনটির কাজ শেষে এখন ইলেক্টিক সংযোগ দিচ্ছেন কলাকৌশলীরা। বসানো হচ্ছে লিফট। রংয়ের তুলিতে দৃষ্টিনন্দন রূপ ফেরাতে চলছে প্রস্তুতি। সরানো হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ সরঞ্জাম।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে কথা হয় চট্টগ্রামের শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে। দৈনিক দেশ বর্তমানকে তিনি বলেন, ৬ তলা বিশিষ্ট এই ইনকিউবেশনের প্রথম তলায় থাকবে ফ্রি স্পেস, ২য় তলায় থাকবে প্লাগ অ্যান্ড প্লে, ৩য় তলায় ট্রেনিং সেন্টার, ৪র্থ তলায় সেমিনার রুম, ৫ম তলায় স্টার্টআপ অ্যান্ড ইনকিউবেশন ও ৬ষ্ঠ তলায় স্পোর্টস, কালচার অ্যান্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ও বিজনেজ স্পেস। এরপাশেই নির্মাণ করা হয়েছে দুই তলা বিশিষ্ট বিশাল ক্যান্টিন। তার পাশেই রয়েছে সাবস্টেশন।
এই প্রকৌশলী আরও বলেন, মূল ভবনের কাজ এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। লিফট, ইন্টেরিয়র, মুজিব কর্ণার ও ফার্নিচার সংযোগের কাজ এখনো বাকি। ক্যান্টিন বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে ৯৬ শতাংশ। সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে সব স্টেশনের কাজ। তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অপেক্ষায়। সড়ক ও পার্কিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে শতভাগই। ছবি বসানো বাকি আছে ম্যুরালে। এসিপি ফিটিংস হলেই শেষ হবে বাকি আর ৩ শতাংশ কাজ। মূল ফটকের কাজ প্রায় এখন শতভাগ বাকি রয়েছে পকেট গেটের কাজ। সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে ডোম ফিটিংয়ের কাজ। সামান্য বাকি রয়েছে বাউন্ডারির কাজ। লেভেলিং ও ড্রেসিংয়ের কাজও এখন শেষ পর্যায়ে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৯৭ শতাংশ। এ কথায় বলতে গেলে আমাদের সব কাজই প্রায় শেষের দিকে। এখন শুধু লিফট ও ইলেকট্রিক সংযোগের কাজ বাকি। এরপরই বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, তথ্য প্রযুক্তি খাতে মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে দেশের আটটি জায়গায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, নাটোর, কুমিল্লা, নেত্রকোণা, বরিশাল ও মাগুরায় স্থাপন করা হচ্ছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালে শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে চট্টগ্রামে সেই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। পরে ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।