অভিযান নয়, নাবিকদের অক্ষত উদ্ধারই লক্ষ্য

সহসা নাবিকদেরকে উদ্ধার করতে পারব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম। এ নিয়ে দস্যুদের সাথে যোগাযোগ চলছে, শীঘ্রই সুবিধাজনক সময়ে উভয় পক্ষ দিনক্ষণ ঠিক করে আলোচনায় বসবে। অন্যদিকে সহসা নাবিকদেরকে উদ্ধার করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার কেএসআরএম’র গণমাধ্যম উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, কোনো ধরনের অভিযান আমরা সমর্থন করছি না। নাবিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জিম্মিদশার অবসান চাই। সুবিধাজনক সময়ে আলোচনার জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে দিনক্ষণ ঠিক করতে যোগাযোগ চলছে।

জাহাজ ও নাবিক উদ্ধারে সোমালিয়ার পান্টল্যান্ড পুলিশের অভিযান ও ইইউ নেভাল ফোর্সের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অভিযান আমরা সমর্থন করছি না, এটা তাদের অভ্যন্তরিন বিষয়। এ বিষয়ে আামাদের জানা নেই। তবে নাবিকদের অক্ষত অবস্থায় ফেরত আনাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম জেলায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্টমন্ত্রী বলেন, এমভি আবদুল্লাহ ঘিরে এমন কিছু করা যাবে না যাতে হুমকির সম্মুখীন হতে হয়।

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হওয়া এমভি আবদুল্লাহ ও জাহাজের নাবিকদের সহসা উদ্ধার করা হচ্ছে জানিয়ে পররাষ্টমন্ত্রী বলেছেন, জাহাজের মধ্যে কয়লা আছে, কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ। সুতরাং এমন কিছু করা যাবে না যাতে করে দাহ্য পদার্থ হুমকির সম্মুখীন হয়, জাহাজের ক্ষতি হয়।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি এবং যারা জাহাজটি হাইজ্যাক করেছে, তারা ইতিমধ্যে মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এ ব্যাপারে আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। আপনারা নাবিকদের পরিবারের সাথে কথা বললেও জানতে পারবেন তারাও অনেকটা আশ্বস্ত। আশা করছি, আমরা সহসা নাবিকদেরকে উদ্ধার করতে পারব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতবার যখন এমভি জাহান মনি হাইজ্যাক হয়েছিল তাদেরকে মুক্ত করতে ১শ’ দিন সময় লেগেছিল। এখন যত দ্রুত সম্ভব তাদেরকে মুক্ত করার চেষ্টাই আমরা করছি। এখানে অবস্থানকারী নাবিক এবং জাহাজের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেভাবেই আমরা উদ্ধার করার চেষ্টা করছি।

এদিকে, গত পরশু জিম্মি জাহাজের নাবিক ও ক্রুদের উদ্ধারে আলোচনা চলমান জানিয়ে নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়া সোমালিয়া জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজে কারও অভিযান চালানোর সুুযোগ নেই। এমভি আবদুল্লাহর কাছাকাছি এলাকায় ইইউ নেভির যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি জিম্মিদের মুক্তির আলোচনায় প্রভাব ফেলবে না বলে জানান তিনি।

জাহাজে থাকা নাবিকেরা হলেন- জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, চীফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, থার্ড অফিসার এন মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট সাব্বির হোসাইন, চীফ ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম সাইদুজ্জামান, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলাম, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. রোকন উদ্দিন, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ, ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ এবং ক্রু মো. আনোয়ারুল হক, মো. আসিফুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, জয় মাহমুদ, মো. নাজমুল হক, আইনুল হক, মোহাম্ম শামসুদ্দিন, মো . আলী হোসেন, মোশাররফ হোসেন শাকিল, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. নুর উদ্দিন ও মো. সালেহ আহমদ।

বিএমএমওএ জানিয়েছে, জিম্মি নাবিকদের মধ্যে ১১ জন চট্টগ্রামের ও ২ জন নোয়াখালীর। বাকি ১০ জন যথাক্রমে ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, খুলনা, নেত্রকোনা, লক্ষীপুর, ফেনী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল জেলার।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজটি সংযুক্ত আরব-আমিরাতের দুবাইয়ের আল-হামরিয়া বন্দরে যাচ্ছিল। ১৯ মার্চ গ্রিনিচ সময় রাত ৮টায় জাহাজটি সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ছিল। কেএসআরএম গ্রুপের মোট ২৩টি জাহাজ আছে, যেগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে। গোল্ডেন হক নামে পরিচিত এমভি আবদুল্লাহ গত বছর কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানায় আসে।

এর আগে, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ভারতের উপকূলে আরবসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি জাহাজ ‘এমভি জাহান মণি’। ওই জাহাজের ২৫ বাংলাদেশি নাবিকের পাশাপাশি এক ক্যাপ্টেনের স্ত্রীসহ ২৬ জনকে ১০০ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সরকারি উদ্যোগসহ নানা প্রক্রিয়ায় ২০১১ সালের ১৪ মার্চ জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়। ১৫ মার্চ তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।