যশোরের অভয়নগরে কোদলা পূর্বপাড়া হরি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ জুন) গভির রাতে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
মন্দিরের পুরোহিত সূধা রাণী হালদার জানান, শনিবার (২২ জুন) সকালে পূজা দিতে এসে দেখি কে বা কারা মন্দিরের চটার বেষ্টনী ভেঙ্গে কার্তিক ও সরস্বতীর ২ টি প্রতিমা ভেঙে ফেলেছে। ভিতরে তারা পূজার সামগ্রীও তছনছ করেছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এলাকাবাসী জানায়, মন্দিরের ১৩ শতক (খাস খতিয়ানভুক্ত) জমি কেন্দ্রিক স্থানীয় সনাতন ধর্মের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। একটি পক্ষ মন্দিরের জমিতে ক্লাবঘর নির্মাণের চেষ্টা করে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে ক্লাবঘর নির্মাণের চেষ্টাকারিরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে সঠিক তদন্তের মধ্যদিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করার আশ^াস দিয়েছেন পুলিশ।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ণুপদ দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস শান্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি নষ্টের চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আটকপূর্বক আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আকিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ অভয়নগর শাখা ও পৌর শাখার পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। যশোর জেলা প্রশাসক বরাবরে লেখা স্মারক লিপি অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে এবং যশোর পুলিশ সুপার বরাবরে লেখা স্মারকলিপি অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এর মাধ্যমে পেশ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অতি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দোষীদের গ্রেফতার এবং মন্দিরের পুরোহিতসহ তার পরিবারের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ অভয়নগর শাখার সভাপতি বিষ্ণুপদ দত্ত,সা: সম্পাদক ও নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র সুশান্ত কুমার দাস শান্ত,সহসভাপতি শংকর সিংহ, পৌর শাখার সভাপতি রবিন অধিারী ব্যাচা,সা: সম্পাদক প্রসনজিত দাস সনজীত,শ্রীধরপুর ইউনিয়ন শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রামকৃষ্ণ ভৌমিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।