১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নির্যাতিত বীরাঙ্গনার সন্তানদের ‘যুদ্ধশিশু’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তাদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে পিতার নাম লেখার প্রয়োজন হবে না। পিতার নাম ছাড়াই তারা রাষ্ট্রের সব সুবিধা বা অধিকার ভোগ করতে পারবেন।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৮২তম বৈঠকে একজন বীরাঙ্গনার সন্তানের যুদ্ধশিশু হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া জানান, যুদ্ধশিশুদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। যুদ্ধশিশুরা পিতার পরিচয় ছাড়াই সব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সব বীরাঙ্গনার যুদ্ধসন্তানই এই সুবিধা পাবেন।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার বীরাঙ্গনা পচি বেগমের (মৃত) মেয়ে মেরিনা খাতুনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধশিশুদের সমস্যার বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিধবা পচি বেগমকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ক্যাম্পে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এতে পচি বেগমের গর্ভে সন্তান আসে। পিতৃপরিচয়হীন এই সন্তানই মেরিনা খাতুন। এ সময় লোকলজ্জার কারণে পচি বেগম ভ্রূণ হত্যা করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত সন্তানের জন্ম দেন। এরপর শুরু হয় মেরিনার সংগ্রামী জীবন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়।
২০১৮ সালের ৪ জুলাই বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান পচি বেগম। কিন্তু পিতার পরিচয় না থাকায় কন্যা মেরিনা খাতুনকে নানা ভোগান্তি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হতো। এ অবস্থায় যুদ্ধশিশুর স্বীকৃতির জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল তাতে সুপারিশ করে।
উল্লেখ্য, জামুকার সিদ্ধান্তের ফলে শুধু মেরিনা খাতুনই নন, সব যুদ্ধশিশুই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করবেন।