অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত

বোলারদের দাপটে প্রথম ইনিংসেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ফল।  বাকি কাজ অনায়াসে সারলেন ব্যাটাররা।  অনায়াস জয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল ভারত।
গতকাল পচেফস্ট্রুমে ফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে ভারত।  ৬৯ রানের লক্ষ্য ৩৬ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে তারা।
তিতাস সাধু, আর্চানা দেবি, পারশাভি চোপড়াদের বোলিং তোপে ১৭.১ ওভারেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।  পরে ২০ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারালেও সৌম্য তিওয়ারি ও গঙ্গারি তৃষার ব্যাটে অনায়াস জয় পেয়েছে ভারত।

৪ ওভারে স্রেফ ৬ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে ফাইনালের ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন সাধু।  চলতি আসরে এটিই ডানহাতি পেসারের সেরা বোলিং।
ফাইনালে হারলেও আসরজুড়ে অলরাউন্ড পারফর্ম্যান্সের সুবাদে টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রেস স্ক্রিভেন্স।  আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯২ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৯ উইকেট পেয়েছেন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার।
টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে ৯৯ গড়ে সর্বোচ্চ ২৯৭ রান করেছেন ভারতের ওপেনার শ্বেতা সেহরাওয়াত।  তিনটি ফিফটি করেছেন তিনি।  সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৯২ রানের।

বোলিংয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ১৫ বছর বয়সী পেসার ম্যাগি ক্লার্ক।  পাঁচ ম্যাচে তার শিকার ১২ উইকেট।  ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে নেওয়া ১৫ রানে ৩ উইকেট তার সেরা বোলিং।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভার থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।  পঞ্চম উইকেটে ১৭ রান যোগ করেন রায়ানা ম্যাকডোনাল্ড-গ্রে ও চ্যারিস পাভেলি।  এটিই ইনিংসের সর্বোচ্চ।

পাঁচ নম্বরে নামা রায়ানা ৩ চারে খেলেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রানের ইনিংস।  শেষের দিকে অ্যালেক্সা স্টোনহাউজ ও সোফিয়া স্মেলের ব্যাটে পঞ্চাশ পেরোয় ইংল্যান্ড। দুজনই করেন ১১ রান।  রান তাড়ায় বেশি দূর যেতে পারেননি আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শ্বেতা।  স্রেফ ৫ রান করে আউট হন তিনি।  অধিনায়ক শেফালি ভার্মা ঝড়ের আভাস দিলেও একটি করে চার-ছয়ে ১১ বলে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি।
তৃতীয় উইকেটে ৪৬ রান যোগ করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন সৌম্য ও তৃষা।  জয়ের জন্য ৩ রান বাকি থাকতে ফেরেন তৃষা।  ৩ চারে ২৯ বলে ২৪ রান করেন তিনি।  সৌম্য ৩ চারে ৩৭ বলে ২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ১৭.১ ওভারে ৬৮ (স্ক্রিভেন্স ৪, হিপ ০, হলান্ড ১০, সেরেন ৩, রায়ানা ১৯, পাভেলি ২, স্টোনহাউজ ১১, গ্রোভস ৪, বেকার ০, সোফিয়া ১১, অ্যান্ডারসন ০*; সাধু ৪-০-৬-২, আর্চানা ৩-০-১৭-২, পারশাভি ৪-০-১৩-২, মান্নাত ৩-০-১৩-১, শেফালি ২-০-১৬-১, সোনাম (১.১-০-৩-১)
ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ১৪ ওভারে ৬৯/৩ (শেফালি ১৫, শ্বেতা ৫, সৌম্য ২৪*, তৃষা ২৪, ঋষিতা ০*; বেকার ৪-১-১৩-১, সোফিয়া ২-০-১৬-০, স্ক্রিভেন্স ৩-০-১৩-১, গ্রোভস ২-০-৯-০, স্টোনহাউজ ২-০-৮-১, অ্যান্ডারসন ১-০-১০-০)

ফল: ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৭ উইকেটে জয়ী

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: তিতাস সাধু
প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট: গ্রেস স্ক্রিভেন্স