আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনুপস্থিত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডা. জাকির হোসেন সিটি কর্পোরেশন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে। যেখানে নিয়মবর্হিভূতভাবে ১৫০০ টাকা করে নিয়ে উপস্থিতি দেখিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনুপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি দেখানো, বাৎসরিক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করেও পাশ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনিয়মের অভিযোগটি তোলেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডা. মনিরুল ইসলাম। তবে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি অধ্যক্ষের।
অভিযোগকারী ডা. মনিরুল ইসলাম দেশ বর্তমানকে বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে অনুপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি দেখানো, বাৎসরিক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করেও বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীকে পাশ করে দেওয়া, ইন্টার্ন ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে অনুপস্থিতির পরও নিয়মবর্হিভূতভাবে ১৫০০ টাকার বিনিময়ে ছাড়পত্র দেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এমনকি পক্সি পরীক্ষা দিতেও সুযোগ দেন এই অধ্যক্ষ। এসব অনিয়ম থেকে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষা করতে এবং দুর্নীতি থেকে কলেজকে বাঁচাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগটি করেছি।
তিনি আরও বলেন, ২০১২ সাল থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষের বাইরে ব্যাংকে নিজ নামের ভিন্ন একাউন্টে এসব টাকা ঢুকছে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলেও বিশ^াস করেন প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাকির হোসেন সিটি কর্পোরেশন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ বর্তমানকে বলেন, যেসব ছাত্র-ছাত্রীদের হাজিরা নাই তাদের থেকে জরিমানা স্বরূপ ১৫০০ টাকা করে নিয়েছে বলে আমি জানি। কতজন থেকে টাকা নিয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী থেকে নিয়েছি বলে শুনেছি।
গতকাল শনবিার দুপুরে সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগে লেখা ২০২৩ সালের ১৫ জন ইন্টার্নি চিকিৎসক থেকে টাকা নিয়েছেন। তবে ওই কলেজের পিয়ন শ্যামলের কাছে সংরক্ষিত আছে একটি সাদা কাগজে মোবাইল নম্বরসহ ২১ জন ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে টাকা নেওয়ার হিসাব।
অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাকির হোসেন হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নুরুল আমিন দেশ বর্তমানকে বলেন, একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
আলাদা ব্যাংক একাউন্ট নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ওই একাউন্টটিও ব্যাংকের বলে দাবি করেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাছ থেকে অনুপস্থিতির বদলে কেন ১৫০০ টাকা করে নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে আগত ছাত্র-ছাত্রীদের মানবিক আবেদনের প্রেক্ষিতে সকল শিক্ষকদের সম্মতিতে এই জরিমানা দিতে বলা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত থাকা কাউছার আহমদ নামে এক প্রভাষকও অধ্যক্ষের ওই নিয়ম দায়িত্বরত সকল শিক্ষকদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান।
বিষযটি নিয়ে কলেজের পিয়ন শ্যামল বলেন, ২১ জন থেকে টাকা নিয়েছি। সবাই ১৫০০ করে টাকা দেয়নি। কেউ কেউ ১ হাজার টাকা আবার কেউ এর চেয়েও কম টাকা দিয়েছে। তবে সাদা কাগজটিতে ১৬ জন ১৫০০ টাকা দিয়েছে। কেউ ১০০, কেউ ৪০০, আবার কেউ কেউ ৫০০ টাকা কম দিয়েছে। যা তাদের পাশে বকেয়া উল্লেখ থাকতে দেখা যায়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম দেশ বর্তমানকে বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন আছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কেউ ছাড় পাবে না। যথাযত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশ বর্তমান/এআই