শ্রীপুরে বহুল আলোচিত জাসাস নেতা হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিনেও রহস্য উদঘাটিত হয়নি, নিরীহ মানুষকে আসামি করার অভিযোগ”
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধঃগাজীপুরের শ্রীপুরে বহুল আলোচিত জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য চৌদ্দদিনেও উৎঘাটিত হয়নি। মৃত্যুর পূর্বে নাম বলে যাওয়া প্রধান আসামী রিমান্ডে দেয়নি কোন তথ্য। শিকার করেনি নিজে জড়িত থাকার কথা। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ড নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিকৃয়া। মূল হত্যাকারী তারা ডাকাত আসামী হলেও তার সাথে থাকা হামলা কারীরা সনাক্ত হয়নি। পূর্ব বিরোধে পাঁচ জনকে আসামী করা অভিযোগ ভোক্তভূগীদের। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের আইনের অওতায় আনার দাবী এলাকাবাসীর।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে একটি ইট ভাটায় কুপিয়ে হত্যা করে দূবৃত্তরা। মৃত্যুর পূর্বে ফরিদ হামলাকারী হিসেবে এলাকার চিহ্নিত তারা ডাকাতের নাম বলে যায়।পর দিন নিহতের ভাই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।মামলায় প্রধান আসামী করা হয় তারা ডাকাত সহ আরো পাঁচ জনকে।নিহত জাসাস নেতা মো. ফরিদ সরকার(৪০) উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের মোঃ জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, নিহত ফরিদ দীর্ঘ প্রায় ২১বছর জর্ডানে ছিলেন। আ’লীগ সরকারে পতনের পর দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেন। গত ২৩মার্চ গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে এক চিঠিতে জানানো হয়,“ দীর্ঘ দিন দলীয় কর্মকান্ডে জড়িত না থাকায় এবং তার বাবা আ’লীগের সাথে জড়িত থাকায় তাকে দলীয় পদ পদবী পরিচয় ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়।”
সূত্র মতে ফরিদ উপজেলার লতিফপুর গ্রামের কেবিএম নামক ইট ভাটার ব্যবসা দখলে নিতে চেষ্টা করেন। গত ১৯ডিসেম্বর রাতে ভাটার মাটি বহন কারী গাড়ি আটকে দেন। পড়ে বিষয়টি মিমাংশা করা হয়। পারিবারিক সূত্র মতে ২৩ডিসেম্বর রাতে ব্যবসার কাজে ফরিদ ওই ভাটায় ছিলেন। ঘটনার রাতে ও ফরিদ মা ও স্ত্রীকে ইট ভাটায় কাজ আছে বলে বেড় হন। রাত দু’টারদিকে ফরিদ ও তার বন্ধু রাজিবকে নিয়ে ভাটায় যান। রাত তিনাটার দিকে তারা ডাকাত ও তার সঙ্গীরা ভাটায় আসে। এক পর্যায়ে তারা ডাকাত ফরিদকে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এসময় ফরিদ স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার খোরশেদ আলম রফিককে মোবাইল ফোনে জানান,“তারা ডাকাত তাকে কুপিয়েছে। ” যার একটি অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান তারা ডাকাতের সাথে ফরিদের যোগ সূত্র ছিলো। ইট ভাটার ব্যবসা সংক্রান্ত আভ্যন্তরিন কোন্দলের কারণে তারা ডাকাত ফরিদকে কুপিয়ে থাকতে পারে। পূর্ব বিরোধের কারণে মামলায় হয়রানী করতে পাঁচ ব্যক্তিকে জড়ানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেতারের দাবী এলাকাবাসীর।
মামলার পাঁচ নম্বর আসামী হৃদয় হাসান জয়ের বাবা সেলিম অভিযোগ করে বলেন,আমার ছেলে কাপাসিয়া কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ে। ফরিদের চাচাতো ভাই ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার সবুজের মেয়ের সাথে আমার ছেলের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মেম্বারের মেয়ে একধিক বার হৃদয়ের কাছে চলে আসে।এক পর্যায়ে মেম্বারের মেয়েকে নিয়ে হৃদয় কোর্ট ম্যারেজ করে মেয়ের বয়স কম হওয়ায় মরহুম সাবেক গোসিংগা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে মেয়ের বাবার কাছে মেয়েকে ফিরিয়ে দেয় হয়।তাদের সাথে আমাদের কোন ব্যবসা বা জমির বিরোধ নেই।প্রতিশোধ নিতে সবুজ মেম্বার আমার ছেলেকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।
মামলার ৬নম্বর আসামী টিটুর বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ফরিদের সাথে আমাদের কোন ব্যবসা বা জমিনিয়ে বিরোধ নেই। টিটু একটি গ্রাম্য শালিশে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে ছিলো। সে আক্রোশে তাকে তাকে প্রতিশোধ নিতে হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মামলার ৩নম্বর আসামী হালিমের স্ত্রী ও ভাবি অভিযোগ করে বলেন,আমাদের সাথে ফরিদ গংদের সাথে জমি নিয়ে একটি দেওয়ানী মামলা ছিলো। ওই মামলা বহুপূর্বে শেষ হয়েগেছে। আদালত আমাদের জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। তাদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। পূর্বে বিরোধের কারণে হয়রানী করতেই আমাদের পরিবারের তিন জনকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সদস্য মামুন সরকার সহ স্থানীয়রা বলেন, এ মামলায় পূর্ব আক্রোশে আসামাী করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত খৃনিদের আইনের আওতায় আনার দাবী করেন তিনি। আপনারা তো কাওকে হামলা করতে দেখেননি তাহলে কিভাবে আসামী করলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মামলার বাদী মো. ফারুক হোসেন জানান, আমার ভাই মৃত্যুর আগে তারা ডাকাতের নাম বলে গেছে। অন্যদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ৫ ও ৬ নং আসামী অন্যদের সহায়তা করতো। এ জন্য তাদের মামলায় আসামী করেছি। এখন প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক মো. মতিউর রহমান জানান, এ মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামী তারা ডাকাতকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে আনা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রকৃত হর্ত্যাকারীদের সনাক্তের কাজ চলছে। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির আহমেদ জানান,এ মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রধান আসামীরপ রিমান্ডে দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বেশী বলা যাচ্ছেনা। প্রকৃত খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।